খুলনা শহরে মেসের বুধবার রাতে ঘটিত বিরোধের পর এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আজমল হোসেন (২২) পিটিয়ে মারার পর হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় সলুয়া গ্রামে।
ঘটনার সূত্রপাত ও হাসপাতালে নেয়ার সময়রেখা
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় রাত এগারো থেকে বারোটার দিকে মেসের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারি ঘটে। পরে আজমল গুরুতর আহত অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. কনক হোসেন বলেছিলেন,
“রাত পৌনে ১টার দিকে আজমল হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এছাড়া তার চুল কাটা ছিল। আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশের তদন্ত ও অভিযোগ
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে রাত ১টার দিকে পুলিশ জানতে পারে এবং পরে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে আজমলকে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছিল।
- স্থান: ইসলাম নগর এলাকার একটি মেস, খুলনা শহর।
- নিহত: মো. আজমল হোসেন, ২২, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- ঘটনার সময়: রাতের খাবারের পর থেকে ঘন ঘন উত্তেজনা, হাসপাতালে নেয়া হয় রাত দেড়টার দিকে।
প্রাথমিক অভিযোগ ও পরিবারের বয়ান
স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবারের বর্ণনায়, ঘটনার দিন আজমল মেসে অন্য কারও মিল শুনে আগে না জানিয়ে খাবার খেয়েছিলেন। এরপর মেসের কয়েকজন তাকে অভিযুক্ত করে মারধর শুরু করলে পরিস্থিতি বেড়ে যায় বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। নিহতের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন জানিয়েছিলেন, ফোনে ডেকে নিয়ে পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়; এরপর অন্য একটি নম্বর থেকে তার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়—এ বিষয় পুলিশ তদন্ত করছে।
প্রমাণ ও উদ্ধার সামগ্রী
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ছাদে মারধরের জন্য ব্যবহৃত লাঠি জব্দ করা হয়েছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের বিবৃতি মতে,
“মূলত, গণপিটুনিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
তবে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি ও ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তে নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে, যা পরে প্রকাশ করা হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম ও বয়স | মো. আজমল হোসেন, ২২ |
| শিক্ষাসংস্থা | নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি বিভাগ (প্রথম বর্ষ) |
| প্রাথমিক ঘটনার সময় | রাতের খাবারের পর; হাসপাতালে নেয়া ~দেড়টার দিকে |
স্থানীয় প্রভাব ও অবশিষ্ট প্রশ্ন
ঘটনাটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের ছাত্রবাস-রেসিডেন্সিয়াল মেসগুলোর মধ্যে শঙ্কা বাড়িয়েছে। মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বন্ bিবিধ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিবাদ মীমাংসার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার সাথে কিছু বহিরাগতও জড়িত থাকতে পারে—এ বিষয় তদন্তে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে।
ময়নাতদন্ত ও ফোনের সিডিআরসহ অন্যান্য প্রমাণপত্র বিশ্লেষণের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে এবং রাতের সময়ে ময়নাতদন্তের পর পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশি চেষ্টায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের আশ্বাস থাকলেও পরিবারের আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্বেগ ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার দাবি সামনে থেকে রাখছে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।