খুলনা: প্রবেশ করছে ড্রোনে—এমন উদ্বেগ জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদকসামগ্রী ড্রোনের মাধ্যমে ঢুকানো হচ্ছে। সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
ড্রোনে মাদক পাচারের দাবি ও নজরদারি
মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে গত কয়েক বছরে মাদক চক্রগুলো প্রযোজ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকানোর চেষ্টা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, "পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে।" মন্ত্রীর উদ্বেগ অনুযায়ী, ইয়াবা চোরাকারবারিরা সীমান্তের ওপারে বসে এসব কৌশল পরিকল্পনা করছে এবং বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে।
সভায় তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ডোপ টেস্টে জোর দেওয়া হচ্ছে এবং আইন প্রয়োগকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে শিক্ষাক্ষেত্র, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
সন্ত্রাস দমন-আইন ও মানবাধিকার
সন্ত্রাস দমন সম্পর্কেও মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার ক্রসফায়ারের কোনো বিকল্প হিসেবে অনৈধ ব্যবস্থায় জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করবে না। তিনি বলেন, কোনো ক্রসফায়ারের প্রয়োজন নেই, দেশের বিদ্যমান আইন যথেষ্ট এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তবে সবকিছুই মানবাধিকার রক্ষা করে হবে।
"সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারে যাবে না সরকার। মানবাধিকার রক্ষা করে প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করে সন্ত্রাস দমন করা হবে।"
মন্ত্রী সভায় আরও বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নানা কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি ও কর্মকৌশলগত সমস্যার নিরসনে সময় দিতে হবে—তবে দ্রুত সংস্কার আনার চেষ্টা চলছে।
সভায় উপস্থিতরা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান এবং জেলার উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা।
| পদবী | নাম |
|---|---|
| জেলা প্রশাসক (সভাপতি) | মিজ হুরে জান্নাত |
| আইনমন্ত্রী (প্রধান অতিথি) | মো. আসাদুজ্জামান |
| জাতীয় সংসদের হুইপ | রকিবুল ইসলাম বকুল |
| সংসদ সদস্য | এস কে আজিজুল বারী হেলাল, আমীর এজাজ খান |
সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা ও জেলা-স্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়োগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মন্ত্রী জানান, মাদক ও জুয়া বিষয়ে আইন প্রয়োগে আরও শক্তি দেয়া হবে এবং সাইবার সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নিয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, যদি সন্ত্রাস দমন অথবা মাদক প্রতিরোধে আইন-নীতিতে কোনো শূন্যস্থান থেকে থাকে সেগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সীমান্ত লাগোয়া এলাকা ও শহরের ভেতরে নজরদারি বাড়াতে এবং ডোপ টেস্ট ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করতে। সভায় অংশ নেয়া কর্মকর্তারা মন্ত্রীর উদ্বেগ গুরুত্ব দিয়ে তা অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক প্রবেশের ধারণা আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিক থেকে নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করেছে। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারীদের দ্রুত সমন্বিত কার্যক্রম ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে সভার বক্তব্যে আশা করা যায়।