খুলনা জেলা প্রশাসনের ভবনের দ্বিতীয় তলার আইসিটি কক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন থেকে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও কক্ষে রাখা আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালপত্র পুড়ে ক্ষতি হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ অভিযান ও প্রাথমিক তৎপরতায় প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনা ও দমকলের তৎপরতা
স্থানীয়রা সন্ধ্যার দিকে আইসিটি কক্ষে আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখে জেলা ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে দ্রুত পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে বলা হয়েছে, তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক কাজ কয়েক মিনিটে সম্পন্ন হলেও পুরোপুরি নির্বাপক কার্যক্রম শেষ হতে আনুমানিক ত্রিশ মিনিট সময় লেগেছে।
“আগুন লাগার সূত্রপাত ও প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, মশার কয়েল কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুন লাগতে পারে — এই সব দিক দিয়ে তদন্ত করতে হবে,”
— জানান খুলনা বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরদার, যারা ঘটনাস্থলে ঘটনাচক্রে উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনে কক্ষের এসি, ফ্যান, ব্যাটারি, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও অগ্নিকাণ্ডের সময় বিচ্ছিন্ন করা হয়। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না—তার বিস্তারিত জানা যাবে।
- ফায়ার সার্ভিস ইউনিট সংখ্যা: ৫টি
- অগ্নিকাণ্ডের সময়কাল (আনুমানিক): প্রায় ৩০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ
- ঘটনাস্থান: খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, দ্বিতীয় তলা, আইসিটি কক্ষ
ফায়ার সার্ভিস জানায়, কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় দরজার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দমকল কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে পুনরায় আগুন লাগার আশঙ্কা এড়াতে কক্ষের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
| বিষয় | প্রাথমিক তথ্য |
|---|---|
| ইউনিট মোতায়েন | ৫টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট |
| নিয়ন্ত্রণে সময় | প্রায় ৩০ মিনিট (আনুমানিক) |
| ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী | এসি, ফ্যান, ব্যাটারি, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম |
প্রশাসনিক প্রভাব ও তদন্তের গুরুত্ব
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সরকারী কাজ-কারবারের একটি কেন্দ্রীয় স্থাপনা; সেক্ষেত্রে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড অফিসিয়াল নথি, সরঞ্জাম ও সার্ভিসে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। জেলা প্রশাসক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন ঘোষণা করায় ঘটনার কারণ উদ্ধূত হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগ প্রতিরোধে নীতি নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে দমকল ও প্রশাসনের তৎপরতাই বড় ধরণের ক্ষতি ও দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে কক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা সরকারি মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে কি না—এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তা-ই বিস্তারিত তথ্যের উৎস হবে।
খুলনা শহরের সরকারি কমিউনিকেশন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এমন ঘটনার প্রভাব সম্পর্কে প্রশাসনিক মহল ও স্থানীয় দায়িত্বশীলরা মনযোগী রয়েছেন। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক লাইন, জরুরি ত্রুটির মোকাবিলা প্রক্রিয়া ও কক্ষ নিরাপত্তা কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে যাতে সরকারি অফিসসমূহে সেবা অব্যাহত রাখা যায় এবং জনগণের কাজে বিঘ্ন না পড়ে।