খুলনা মহানগরীতে সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে ২৭ বছর আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয়নাল সরদার (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি)। সকাল ছয় মিনিটে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮ যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাঁকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পটভূমি ও অভিযানের নির্দেশনা
এসআরবি জানায়, জয়নাল দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় পাল্টে বিদেশে ও দেশে স্থানে-স্থানে গোপন ছিলেন। সূত্রে বলা হয়েছে তিনি পূর্বে ভারত ও কুয়েতে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে অভিযান করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জয়নাল বরিশালের গৌরনদী থানার বংকুরা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে। সংযুক্ত সূত্র অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে রূপসা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তিনি মূলত পলাতক আসামি ছিলেন এবং পরে মামলার রায় হওয়ায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতির রায় ও জরিমানা
মামলাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তাকে জাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। একই ঘটনায় লাশ গুমের পৃথক অভিযোগে তাকে অতিরিক্ত ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অনুচ্ছেদ নির্দেশ করা আছে।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে। থানা সূত্রে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হস্তান্তর এখনও সম্পন্ন হয়নি এবং প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র
এক পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ও পরিচয় পাল্টিয়ে ফিরে বেড়ানো একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির গ্রেপ্তার স্থানীয় মানুষের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্নের পাশাপাশি সান্ত্বনার সঙ্কেতও বয়ে আনে। বিস্তীর্ণ সময়ে প্রশাসন ও তদন্তকারীদের তথ্যচক্র ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমন্বয় ভুলে এই গিরফ্তারি সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশের বিবরণে উল্লেখ আছে।
- গ্রেপ্তারকৃত: জয়নাল সরদার (৫৫)
- স্থান: সোনাডাঙ্গা, খুলনা মহানগরী
- অভিযানকারী ইউনিট: এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮
- মূল মামলা: ১৯৯৯ সালের রূপসা থানার হত্যা মামলা
টাচপয়েন্ট: গ্রেপ্তারের সময়রেখা
| ইতিবাচক সময়/বণ্টন | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৯৯ | রূপসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের |
| মামলার রায় (২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর) | জাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা; লাশ গুম সংক্রান্ত অতিরিক্ত দণ্ড |
| ২০২৬ (সপ্তাহান্ত) | খুলনা সোনাডাঙ্গা থেকে এসআরবি অভিযান করে গ্রেপ্তার |
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘকাল পলাতক থাকা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে মামলার বাকী প্রক্রিয়া দ্রুত তদারকি করা উচিত যাতে বিচারে তার যোগসূত্র ও অন্য সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার যে কোনও তথ্য বিস্তারিতভাবে উন্মোচিত হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পলাতকদের বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভূমিকম্পের মতো বিস্তর এলাকায় লুকিয়ে থাকা—এটি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ঘটনার বিবরণে এসআরবি উল্লেখ করেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অভিযান সফল হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারী কার্যক্রমের পর রূপসা থানার মামলার তদন্তপত্র ও আদালতে থাকা নথিপত্রের আলোকে আদালতি কার্যক্রম কবে ও কীভাবে এগোবে তা নজরদারি করার বিষয়। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা কতটা দ্রুত হবে, তা স্থানীয় জনগণ নজর রাখছে।
এসআরবি ও থানা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হলে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ড-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।