খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গল্লামারি ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে পিটিয়ে গুরুতর আহত হয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আজমুল হোসেন (২২) নিহত হওয়ার ঘটনায় হরিণটানা থানায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন মামলাটি করেন, মামলার এজাহারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে—ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানায় প্রশাসন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
পুলিশ ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে মেসের নিয়ম না মেনে কাউকে না জানিয়ে খাবার খেয়েছেন আজমুল। মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে প্রথমে গালিগালাজ করেন এবং পরে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী তাকে চারতলা ভবনের ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়; সেখানে তাঁর মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
রাতে রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যবক তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ছিল; চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হবে।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশি কার্যক্রম
নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন শনিবার রাতে হরিণটানা থানায় মামলা করেন। মামলায় চার জনের নাম উল্লেখ করে এবং অন্য ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
“বিষয়টি নিয়ে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে,”
স্থানীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বলেছেন—কয়েকজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
নিহতের পরিচয় ও পরিবারিক দাবি
নিহত মো. আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন; তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার জানিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নিহতের পরিবারকে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে সেই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পিতা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতের ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোষীদের ন্যায্য পরিণতি দেয়ার দাবি করা হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মেস–নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্র বলেছে, ওই মেসে খাবার খাওয়ার জন্য সাধারণত আগে থেকে জানানো বাধ্যতামূলক; নিয়ম মত না জানিয়ে কাউকে খাবার খেয়ে নেয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। মেসের খালার কথায়, তিনি রান্না করে খাবার দিতেন এবং মেসের সবাই সেটি ভোগ করত; ওই দিন আজমুল কাউকে না জানিয়েই খাবার খেয়েছিলেন—তার পরই বিবাদ শুরু হয়। ঘটনার সূত্র হিসেবে মেসে চুরি ও টাকা-ফোনের ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে বলে খালার কথায় শোনা গিয়েছে।
তথ্য ও ভবিষ্যৎ করণীয়
এই ঘটনার তদন্তে অনুসন্ধান ও সুষ্ঠু ময়নাতদন্ত জরুরি বলে মনে করেন তদন্তকারীরা। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উভয়েই দ্রুত ও ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন। স্থানীয় নিরাপত্তা বলয়ের প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বসতি ও ছাত্রাবাস/মেসে কিভাবে সহিংসতা রোধ করা যায় তা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
- নির্বাচিত তথ্য: নিহত—মো. আজমুল হোসেন, বয়স ২২
- আইনি ব্যবস্থা: মামলা—হরিণটানা থানা; ৪ নামে এজাহার, ২০–২৫ অজ্ঞাতনামা
- প্রাথমিক অভিযোগ: মেসে মিল না দিয়ে খাবার খাওয়া, এরপর মারধর; পরিবারের কাছে টাকা দাবি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম ও বয়স | মো. আজমুল হোসেন, ২২ |
| বাড়ি | চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা থানা, বড় শলুয়া গ্রাম |
| আইনি পদক্ষেপ | হরিণটানা থানায় মামলা—৪ জনের নাম, ২০–২৫ অজ্ঞাতনামা |
পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেফতার এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করলে স্থানীয়বাসী ও ছাত্রসমাজ কিছুটা শান্তি পাবে বলে মনে করছেন জানাশোনা কয়েকজন। খুলনার শিক্ষা ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার পরে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।