খাগড়াছড়ি-লংগদু সড়কের আটারকছড়া এলাকার তেতুলতলা অংশে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানি জমে থাকার কারণে সড়কের পিচ উঠে গর্ত ও কাদা জমে চলছে স্থানীয়দের দুর্ভোগ। ভৌগোলিক কারণে সড়কের দুপাশের জমি সড়কের তুলনায় উঁচু হওয়ায় বর্ষা এবং আশপাশের পানিস্রোত সরাসরি সড়কে জমে থাকে; ফলশ্রুতিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি
পাসেঞ্জার ভয়েসের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মাত্র কয়েক মিটার হলেও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের উপর এর প্রভাব সুগভীর। স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক মো. ইকবাল বলেন, “লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য এটি একমাত্র পথ। মাত্র কয়েক মিটার জায়গা পানিতে তলিয়ে থাকলেও পুরো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে… মানুষের চরম ভোগান্তি হয়।”
পানি ও কাদার কারণে বিশেষ করে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকার ফলে সড়কের পিচ উঠে কয়েকটি স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়।
কী করণীয় — স্থানীয়দের দাবি
আটারকছড়া এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জোতিন চাকমা স্থানীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে কিছু প্রস্তাব জানিয়েছেন: একটি উঁচু করে কালভার্ট নির্মাণ এবং প্রায় ১০০ মিটার সড়ক উঁচু করে দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, এসকল ব্যবস্থা নিলে তেতুলতলায় বর্ষাকালে পানি জমা ও সড়ক ক্ষয় কমে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন, সমস্যাটি বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে; সাময়িক সংস্কার কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিস্থাপন হয়ে যায়। এজন্য তারা দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন ও সড়ক সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
- সমস্যার ধরন: বর্ষা ও আশপাশের পানির স্রোত থেকে সড়কে পানি জমে কাদা ও গর্ত সৃষ্টি।
- প্রভাব: মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ; যোগাযোগ ব্যহত।
- স্থানীয় দাবি: কালভার্ট নির্মাণ, নিকাশি ব্যবস্থা ও প্রায় ১০০ মিটার সড়ক উঁচু করা।
সংক্ষিপ্ত কর্মপরিকল্পনা (প্রস্তাবিত)
| প্রস্তাবিত কাজ | প্রভাব |
|---|---|
| উঁচু কালভার্ট নির্মাণ | পানি দ্রুত নিষ্কাশন; পরিবহন সচল থাকবে |
| প্রায় ১০০ মিটার সড়ক উঁচু করা | সড়কের স্থায়িত্ব বাড়বে; পিচ দ্রুত ক্ষয় হবে না |
| স্থায়ী নিকাশি ও ପয়েন্ট-রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা | দ্রুত সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করবে |
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সড়কের উপর পানি দীর্ঘসময় জমে থাকায় স্থায়িত্ব কমে যায় এবং সামান্য সংস্কারের কয়েক দিনের মধ্যেই পিচ উঠে আবারও গর্ত দেখা দেয়। ফলে বারবার সংস্কারের চেয়ে স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে তাদের দাবি।
“বর্ষা এলেই সড়কের ওই অংশে পানি জমে যায় এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে… অনেক সময় মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়,”
এদিকে, সংবাদ প্রাপ্তির সময় স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে সড়কটি নীর্বিঘ্নভাবে চালানোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। খাগড়াছড়ি-লংগদু সড়কটি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঃ তাই সেখানে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সীমিত অংশের সমস্যা পুরো অঞ্চলের যোগাযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ হলো—সমস্যার প্রতি দৃষ্টি না দিলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়বে এবং সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘদিন সমস্যাগ্রস্ত থাকবে। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতিবার বর্ষায় পুনরায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে প্রভাবিত হাজারো বাসিন্দাকে।