২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে ঝালকাঠির দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়নি। সদর উপজেলার সাওড়াকাঠী নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭ জন এবং কাঁঠালিয়া উপজেলার বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ৬ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানেই পাসের হার শূন্য শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
ফলাফল ঘোষণার পরে দুই বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির দুর্বলতাকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ছোট প্রতিষ্ঠানের সীমিত শিক্ষকদের সংখ্যা, উপকরণহীনতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়ার মতো কারণগুলো এখানে ভূমিকা রাখতেই পারে।
এক অভিভাবক বলেন, “আমরা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন; তারা অনেক চেষ্টা করলেও যায়নি—কীভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্ট হলো তা জানতে চাই।” (উৎস থেকে সরাসরি বর্ণিত প্রতিক্রিয়া নয়, স্থানীয় সাধারণ মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবু ছাঈদ ফলাফলের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
“যে দুটি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কেন এমন ফলাফল হলো, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলার সার্বিক অবস্থা
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঝালকাঠি জেলায় এ বছর মোট ১০২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। জেলা এলাকা অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংখ্যা বিভাগের হিসেবে আছে—ঝালকাঠি সদরে ৩৩টি, নলছিটিতে ২৯টি, রাজাপুরে ২০টি এবং কাঁঠালিয়াতে ২০টি বিদ্যালয়।
সম্ভাব্য কারণ ও পরবর্তী করণীয়
উপলব্ধ তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়; তবে শিক্ষা বিশ্লেষক এবং স্থানীয়রা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন যা তদন্তে দেখা উচিত:
- নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ ও পাঠদানের পরিমাণ ও গুণগত মান।
- শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি বা শিক্ষক সংকট।
- পরীক্ষার প্রস্তুতির নির্দেশনা ও সহায়তা কার্যক্রমের অনুপস্থিতি।
- বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ততা।
- অভিভাবক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তা বা মনোবিজ্ঞানগত প্রস্তুতির ঘাটতি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ঘোষণা অনুসারে, ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয়ভাবে বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ মিলিতভাবে বিদ্যালয়গুলোতে পরিদর্শন করে শিক্ষামান উন্নয়নে নির্দেশনা দিতে পারে।
ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
যেসব ছাত্র/ছাত্রী এইবার অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের পুনরায় প্রস্তুতির সুযোগ এবং পুনরাবাসনের বিষয়ে পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থায় ক্ষুদ্র বিদ্যালয়গুলোকে সহায়তা না দিলে বারবার এমন ফলাফল ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। অতএব স্থানীয় সরকার, শিক্ষা বিভাগ ও অভিভাবকরা মিলেই টার্গেটভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন—যেমন টিউটরিং, পরীক্ষানির্ধারিত সিলেবাস বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি সেশন, এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ।
সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল
| বিদ্যালয় | পরীক্ষার্থী সংখ্যা | পাস |
|---|---|---|
| সাওড়াকাঠী নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় | ৭ | 0 |
| বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় | ৬ | 0 |
স্থানীয়রা আশা করছেন জেলা শিক্ষা অফিস এবং বোর্ড দ্রুত তদন্ত শেষে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্বল ফলাফলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।