চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ঝালকাঠির ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফলাফল শূন্য হওয়ায় স্থানীয় সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
কোনো পরীক্ষার্থীর পাস নয়
ফলাফলে দেখা যায়, ঝালকাঠি সদর, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর-নলছিটি অঞ্চলের কয়েকটি বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কোনোই পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেনি। তালিকা অনুযায়ী মূলত চারটি দাখিল মাদ্রাসা এবং দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলোর ফল হতাশাজনক।
| প্রতিষ্ঠান | পরীক্ষার্থী সংখ্যা | পাস সংখ্যা |
|---|---|---|
| মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা (সদর) | ১৩ | ০ |
| সাওরাকাঠি নাভা আদর্শ সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল | ৭ | ০ |
| বাঁশবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা (কাঁঠালিয়া) | ২৫ | ০ |
| ঝোড়খালী দারুলহুদা গফুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা | ২৪ | ০ |
| দত্তের পশারিবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা | ১৬ | ০ |
| বানাই রাবেয়া বালিকা বিদ্যালয় | ৬ | ০ |
স্থানীয় অভিযোগ ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান হয় না; শিক্ষকরা স্কুলে এসে কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যান এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম। তাদের ধারনা, বিশেষ করে এমপিওভুক্তির আশায় কিছু প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, ফলাফলের দীর্ঘমেয়াদী খারাপ ধারা এই অনিয়মের প্রমাণ।
"জেলার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের সেখানে পাঠাতে আগ্রহী হন না। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম থাকে।"
এ মন্তব্যটি করেছেন ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ, যিনি জানান এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায়—স্থানীয় প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রত্যন্ত গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত। প্রত্যন্ততার ফলে শিক্ষার উপকরণ-সুবিধা, নিয়মিত শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের ঝোঁক কম থাকায় শিক্ষার্থী উপকৃত হয় না—এই একই কারণ অন্যান্য দুর্গম অঞ্চলেও দেখা যায়। ভৌত অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হলে অভিভাবকরা সন্তানের স্কুলে পাঠাতে অনিচ্ছুক হন; তা আবার উপস্থিতি ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রতিফলন ফেলে।
অগ্রগতি ও পরবর্তী করণীয়
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাস অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবিক চিত্র যাচাই-বাছাই করে, ভবন ও শিক্ষক সংকট হিসাব করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
- ভবন ও পাঠাগারের অবকাঠামো পরিদর্শন করে জরুরি সংস্কার কার্যক্রম চালানো।
- অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা ও টিউশন ব্যবস্থা করা।
ফলাফলে দেখা গেলেও জেলার কিছু ভালো ফল করা স্কুল ও মাদ্রাসাও আছে; উদাহরণস্বরূপ, রাজাপুরের এসজিএস সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন এবং নলছিটির পশ্চিম গোপালপুর হাইস্কুল থেকে ১৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী পাস করেছেন—এটি নির্দেশ করে যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি আলাদা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।
পড়ুয়াদের ও অভিভাবকদের প্রশ্ন
অনেক অভিভাবক এবং স্থানীয়রা জানতে চাচ্ছেন, কেন দীর্ঘদিন ধরে ফলাফল উন্নত হয়নি এবং এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রদায় কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। তারা সরকারি পর্যায়ে কড়া তদারকি এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
জেলার শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কতটা কার্যকর পদক্ষেপ এই ফলের ব্যাখ্যা ও পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে—এটিই এখন প্রধান প্রশ্ন।