হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া এলাকায় আজ রোববার দুপুরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে তেলবাহী লরি ও একটি ডাম্প ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ডাম্প ট্রাকটি উল্টে সড়কের পাশে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপর পড়ে, যাতে অটোরিকশার এক যাত্রীও নিহত হন।
দুর্ঘটনার সময় ও তৎপরতা
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, দুপুরে ঢাকাগামী তেলবাহী লরিটির সঙ্গে সিলেটগামী ডাম্প ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর ডাম্প ট্রাকটি উল্টে গিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর পড়ে।
“ঘটনাস্থলে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে; মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে,”
নিহত ও তাদের পরিচিতি
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে নিহতদের পরিচয় এবং ঠিকানা নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | ঠিকানা | পদবী/অবস্থা |
|---|---|---|---|
| রিপন মিয়া | ২৭ | মাধবপুর উপজেলার রতনপুর গ্রাম | ডাম্প ট্রাকের হেলপার |
| আবুল খায়ের | ৫০ | মাধবপুর উপজেলার পশ্চিম মাধবপুর এলাকা | অটোরিকশার যাত্রী |
পরিস্থিতি ও প্রভাব
দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণ বিপর্যস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
- ঘটনাস্থল: মাধবপুর, বেজুড়া — ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক
- প্রাথমিক মৃতের সংখ্যা: ২ জন (ডাম্প ট্রাকের হেলপার ও অটোরিকশার এক যাত্রী)
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা: ঘটনাস্থলে পুলিশ উদ্ধার ও ময়না তদন্তের ব্যবস্থাপনা করেছে
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিকভাবে সংঘর্ষের পর ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে উল্টে গিয়ে পাশের অটোরিকশার উপর পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক হবিগঞ্জ জেলার একটি প্রধান ধ্যান—অবস্থান হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে নিরাপদ গতিপথ, বসতঘর-সড়ক পারাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা ও ভারি যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ম কড়াকড়ি না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
অপরদিকে, সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পথচারী ও পণ্যবাহী যানজোটে ব্যবসায়িক ক্ষতিও হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাধবপুরের বাসিন্দাদের কাছে মহাসড়কে সিগন্যাল, স্পিডব্রেকার ও পুলিশের নিয়মিত তদারকির দাবি জোরেশোরে উঠছে।
এই ঘটনায় দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে আইনি কার্যক্রম ও ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশা করা হচ্ছে। পুলিশ অভিযোগপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
WE NEWS হবিগঞ্জ-এর পক্ষ থেকে আমরা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করে পাঠকদের জানিয়ে দেব।