গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র্যাবের অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তিনটি ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং দুটি আলাদা শাস্তি কার্যকর করা হয়—একজন অনভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ানকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং একজনকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে শনাক্ত করে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের প্রধান ফলাফল
বুধবার দুপুরে জয়দেবপুরে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নূর নাহিন নিশাদ এবং তাদের নেতৃত্বে গঠিত দল। অভিযানে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ও ক্রিয়ার বিস্তারিতভাবে অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে—কোন কেন্দ্রগুলো কোন শাস্তি পেয়েছে তা নিম্নে শ্রেণীবদ্ধ করা হলো।
| ডায়াগনস্টিক সেন্টার | অনভিযোগ/অনিয়ম | শাস্তি |
|---|---|---|
| অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার | বিভিন্ন অনিয়ম (বিবরণ অনুসন্ধানে) | ৬০,০০০ টাকা জরিমানা |
| কোয়ালিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার | অনভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ানের দ্বারা পরীক্ষামূলক কাজ | ৬০,০০০ টাকা জরিমানা এবং শাকিল নামে একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড |
| মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টার | ভুয়া চিকিৎসক কর্মরত থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম | ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা, আসাদ নামে একজনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা |
কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে
রিপোর্ট অনুযায়ী, কোয়ালিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষাগারে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করানো হচ্ছিল। মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজনকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে শনাক্ত করা হয়, যা রোগীর সুরক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। অভিযানে এই ধরনের অনিয়মের কারণ এবং কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স সম্পর্কিত প্রশ্নও উঠেছে।
অভিযানকারীর মন্তব্য
“রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে,”
এ বলেছেন ম্যাজিস্ট্রেট নূর নাহিন নিশাদ। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সেবা প্রদানে মান রক্ষা করা না হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনভিজ্ঞ বা ভুয়া কর্মীর মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলে রোগ নির্ণয় ভুল হতে পারে, ভুল ওষুধ প্রয়োগ বা অবাঞ্ছিত চিকিৎসা সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই ধরনের অনিয়ম গাজীপুরের রোগীদের জন্য সরাসরি ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও নিয়ম-নীতি
ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম ও লাইসেন্সের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরীক্ষা চালিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় জারী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় বের করার কথা বলা হয়েছে।
রোগীদের জন্য নির্দেশনাসমূহ
- রোগীরা তাদের রিপোর্ট নেওয়ার আগে ল্যাবের পরিচয়পত্র ও কর্মীর যোগ্যতার তথ্য যাচাই করুন।
- অসামঞ্জস্য বা সন্দেহ এলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অভিযোগ করুন।
- গম্ভীর বা অনিশ্চিত রিপোর্ট পেলে দ্ব্রিতরফে দ্বিতীয় মতামত নিন।
এই অভিযানটি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা মান রক্ষা ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যাতে জনসাধারণ নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।