গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা শনিবার র্যাব-১৩ ও সিপিসি-৩ গাইবান্ধার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশের এমন প্রতিশ্রুতির জায়গায় যেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শোয়ে আছেন এবং জাতীয় সংগীত রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশ—সেখানে মাদক কোনোভাবেই প্রশ্রয় পাবে না।
“যে দেশের মাটিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুয়ে আছেন, যে দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—সেই দেশে মাদক কোনোভাবেই প্রশ্রয় পেতে পারে না।”
তিনি এ সময় শিক্ষার্থী, তরুণ ও আগামী প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে ছিল কড়া সুর—স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করে মাদক নির্মূলের কাজ গাইবান্ধা থেকেই শুরু করা হবে বলে তিনি জানায়।
স্থানীয় উদ্যোগ ও অঙ্গীকার
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার রেজাউল হক এবং পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন। বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে—বিশেষত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে—মাদকমুক্ত রাখতে তৎপর থাকার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, মাদক প্রতিরোধে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় সম্পৃক্ততা এবং পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশেষ করে গাইবান্ধা সরকারি কলেজসহ জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি সরাসরি আবেদন করেন।
আয়োজন ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানটি র্যাব-১৩ ও সিপিসি-৩ গাইবান্ধা আয়োজিত ‘মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ’ শীর্ষক। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, গাইবান্ধায় অনেক জ্ঞানী ও আলোকিত মানুষের বসবাস রয়েছে; এমন পরিবেশে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরো ফলপ্রসূ হবে। তিনি যুক্ত করেন যে র্যাবের মহাপরিচালকের বাড়িও এই জেলায়—এটি স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।
অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ
- তারিখ ও স্থান: জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, গাইবান্ধা
- আয়োজক: র্যাব-১৩ এবং সিপিসি-৩ গাইবান্ধা
- প্রধান অতিথি: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা
- বিশেষ অতিথি: ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার রেজাউল হক ও পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন
- অন্য বক্তারা: অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান, অমিতাভ দাশ হিমুন
| উপস্থিত ব্যক্তি | প্রতিষ্ঠান/পদ |
|---|---|
| মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা | জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধা |
| রেজাউল হক | ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার, র্যাব-১৩ |
| জসিম উদ্দীন | পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা |
স্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। বক্তারা মনে করান যে, মাদকবিরোধী কাজ সফল করতে প্রয়োজন প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবারের সংহতি এবং স্থানীয় সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
সমাজ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
জেলা প্রশাসকের ঘোষণার পর স্থানীয় পর্যায়ে কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না থাকলেও, র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা দলের সহযোগিতা পেলে মাদক চিহ্নিতকরণ, স্মার্ট অভিযোজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় স্কুল-কলেজ, পিতা-মাতা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে যাতে মাদক বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করে তরুণদের কৃষ্টি-কলার দিকে আকৃষ্ট করা যায়—তাও বক্তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
গাইবান্ধার সামাজিক পরিমণ্ডলে মাদক বিরোধী উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় নেতৃত্ব, প্রশাসন ও জনগণের ধারাবাহিক অংশগ্রহণের ওপর। জেলা প্রশাসকের কড়া বিবৃতি এবং র্যাবের উপস্থিতি এই প্রচেষ্টা শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।