শহরের প্রধান সড়কে আধা ঘণ্টা অবরোধ
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা শহরের ডিবি সড়কের গানাসাস মার্কেটের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ও সমাবেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা পৌরসভার বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট প্রদানের নামে নগদ আদায়ের অভিযোগ তোলেন। গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ ও ফুলছড়ি উপজেলা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা ইউনিয়ন যৌথভাবে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধ করেন, ফলে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি হয়।
মূল দাবি ও হুঁশিয়ারি
আন্দোলনকারীরা তাদের ৯ দফা দাবির মধ্যে প্রধানত পৌঁছান যে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স, নম্বর প্লেট ও রুট পারমিট পৌরসভা নয়, বরং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর অধীনে দেওয়া উচিত। এছাড়া তারা চলমান লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আবেদনও জানায়। আন্দোলনকারীরা সতর্ক করেন যে, পৌরসভার এই কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ না করলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
- বিক্ষোভের আয়োজক: গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ ও ফুলছড়ি উপজেলা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা ইউনিয়ন
- প্রধান স্থান: গানাসাস মার্কেটের সামনে, ডিবি সড়ক
- সময়কাল: প্রধান সড়ক প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধ
পৌরসভার অবস্থান
গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর হানিফ সরদার বিক্ষোভের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পৌরসভা ইজিবাইক, অটোরিকশা বা মিশুক থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে না। তিনি জানান যে, বিধিমতো নতুন গাড়ির লাইসেন্স করে নিতে হলে বাৎসরিক ৪,৬০০ টাকা এবং পুরাতন গাড়ির লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৩,৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, পৌর এলাকায় আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ হাজার ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক চলছে এবং লাইসেন্স না হলে অন্যান্য উপজেলা থেকে এসব গাড়ি এসে শহরে ভিড় করে, ফলে যানজট সৃষ্টি হয়।
“নিয়ম অনুযায়ী নতুন গাড়ির লাইসেন্স করতে হলে বাৎসরিক চার হাজার ৬০০ টাকা এবং পুরাতন গাড়ির লাইসেন্স নবায়ন করতে তিন হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পৌর এলাকার ১২ থেকে ১৪ হাজার ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক চলে,”
স্থানীয় প্রভাব ও উল্লেখযোগ্য তথ্য
বিক্ষোভে বক্তারা জানান যে, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট দেওয়ার নকল বা অনােইন পদ্ধতিতে টাকা আদায় চালু থাকলে চালকরা আর্থিকভাবে সংবলহীন হয়ে পড়েন এবং সেবা ভোগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। পক্ষপাতমূলক বা অতিরিক্ত ফি আদায় স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে, এতে প্রতিদিনের নগর চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
| ধরণ | ফি (টাকা/বছর) |
|---|---|
| নতুন গাড়ির লাইসেন্স | ৪,৬০০ |
| পুরাতন গাড়ি নবায়ন | ৩,৪০০ |
নাগরিক ও প্রশাসনিক করণীয়
এই সমস্যার ন্যায্য ও টেকসই সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিআরটিএর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
- প্রথমত, লাইসেন্স প্রদানের কর্তৃত্ব এবং ফি নির্ধারণ সংক্রান্ত স্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা দরকার।
- দ্বিতীয়ত, অভিযোগ নিরসনে স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
- তৃতীয়ত, চালকদের দাবির বৈধতা যাচাই করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন যাতে নগর চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ও পৌরসভার বিভিন্ন বিবৃতির মধ্যে তফাৎ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শহরের প্রধান সড়কে এই ধরনের কর্মসূচি বারবার হলে দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিঘ্নিত হবে। তাই গাইবান্ধা জেলার প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সংলাপ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছে নাগরিকেরা।