সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ফলাফলে জানা গেছে যে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড-এর আওতাভুক্ত ১৮টি বিদ্যালয় থেকে এই বছরের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ১২৪ জন পরীক্ষার্থী কেউই পাস করতে পারেনি। রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
কোন স্কুলগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছে
দিনাজপুর জেলা ও আশপাশের জেলাগুলোতে শতভাগ অকৃতকার্যের তালিকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তাদের অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্লক listar করা হচ্ছে:
- নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) — গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়: ১৯ জন অংশগ্রহণকারী, সবারই অকৃতকার্য।
- পীরগঞ্জ (রংপুর) — কুমারপুর হাই স্কুল: ১৮ জন; ঘাসিপুর হাই স্কুল: ১৫ জন।
- ডোমার (নীলফামারী) — আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ১০ জন।
- রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) — তালতলা হাই স্কুল: ১২ জন।
- কুড়িগ্রাম সদর — পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়: ১ জন।
- ভুরুঙ্গামারী — পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৪ জন; ব্রাহ্মণপাড়া হাই স্কুল: ৪ জন।
- গাইবান্ধা — উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৫ জন; মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পলাশবাড়ী): ৩ জন।
- লালমনিরহাট — এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (কালীগঞ্জ): ৫ জন।
- ঠাকুরগাঁও সদর — আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়: ৪ জন; অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়: ৭ জন; মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৫ জন; তাওরিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়: ৫ জন; হরিপুরের রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৩ জন।
- পঞ্চগড় — বালারামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (বোদা): ১ জন; বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৩ জন।
বোর্ডের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের প্রতিশ্রুতি
দুর্বল ফলার বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কোথায় কী ধরনের ঘাটতি আছে তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফল নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
"কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং ভালো ফল নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তদারকি করা হবে।" — অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর মো. আব্দুর রাজ্জাকও বলেছেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া বিদ্যালয়গুলোকে ডেকে তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য লিখিত সমাধান পরিকল্পনা তলব করা হবে। তিনি আরও জানান যে, বোর্ড প্রয়োজনে ওই স্কুলগুলোকে সহায়তা দেবে।
অবশিষ্ট প্রশ্ন ও স্থানীয় প্রভাব
এই ধরনের শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সম্প্রদায়ের কাছে প্রশ্ন উঠে— এ সমস্যা কি দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের গুণগত সমস্যা, নাকি অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণের ফল? সূত্রভিত্তিক বিশ্লেষণ ছাড়া তা নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় স্কুলগুলোর শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি জরুরি দিক বিবেচনা করা উচিত:
- পাঠদানের মান ও শিক্ষিকা-শিক্ষক সংকট খতিয়ে দেখা।
- পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত শিক্ষাক্রম ও সহায়তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন।
- অভিভাবক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পুনর্ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ।
তথ্যগত সারাংশ
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| শতভাগ অকৃতকার্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা | ১৮ |
| এই বিদ্যালয়গুলোর মোট অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা | ১২৪ |
স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি সেই এলাকায় পুনরায় শিক্ষাগত মান প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। বোর্ডের ঘোষিত তদন্ত ও সাহায্য পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণার প্রতীক্ষা চলছে।