দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা কেন্দ্রীয় অবস্থানের আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানে থেকে মোট ২৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরীক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
বিদ্যালয়ের দাবি: পরিচর্যা ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমেই সাফল্য
বিদ্যালয় পরিচালক ও অধ্যক্ষ মো: মমিনুল ইসলাম সাফল্যের পিছনে শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত অধ্যাবসায় এবং অভিভাবকদের পূর্ণ সহযোগিতা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই স্কুলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও হিসাব রাখা হয়, ফলে দুর্বল দিকগুলো দ্রুত সনাক্ত ও ঠিক করা সম্ভব হয়।
“শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা, আন্তরিকতা, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত অধ্যাবসায় ও অভিভাবকদের পূর্ণ সহযোগিতার কারণেই এই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
উপজেলার অন্যান্য আবাসিক স্কুলের ফল
চিরিরবন্দর উপজেলার অন্যান্য রেসিডেন্সিয়াল স্কুলগুলোর ফলও ভালোমতো এসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- মেহের হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল—পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৪, তার মধ্যে ৭৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
- আমনো বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল—পরীক্ষার্থী ২১৭, তাদের মধ্যে ২০২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
- সিটি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল—পরীক্ষার্থী ৭১, যাদের ৬৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
| বিদ্যালয় | পরীক্ষার্থীর সংখ্যা | জিপিএ-৫ প্রাপ্ত |
|---|---|---|
| আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল | ২৪২ | ২৪২ |
| মেহের হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল | ৭৪ | ৭৩ |
| আমনো বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল | ২১৭ | ২০২ |
| সিটি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল | ৭১ | ৬৫ |
স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া
জাতীয় সংসদের হুইপ মো: আখতারুজ্জামান মিয়া আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের এই ফলকে গৌরবোজ্জ্বল হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। হুইপ সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এধরনের ফল ধরে রাখতে সবাইকে আরো যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, স্কুলগুলোতে নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আবাসিক পরিবেশে পাওয়া সহায়তাই এমন ফলাফল নিশ্চিত করেছে। এই ধরনের ফলাফল শৈক্ষিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দেয়।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: মান ধরে রাখা
উল্লেখ্য, একটি এককালীন সফলতা বজায় রাখা একটি বৃহত চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রম ও মানসম্মত তত্ত্বাবধানে নিয়মিত কাজ অব্যাহত না থাকলে ভবিষ্যতে সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় এসব দিকগুলোকে বিবেচনায় রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, অভিভাবকদের সহায়তা এবং শিক্ষক-প্রশাসনের মিলিত প্রচেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে, তবে চিরিরবন্দরসহ সমগ্র জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে শিক্ষাবৃত্ত ও অভিভাবকরা মনে করছেন।
আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের এই ফলাফল স্থানীয়ভাবে শিক্ষার মান যাচাইয়ের একটি নজির হিসেবে ধরা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে কি ধরনের শিক্ষানীতি, প্রশিক্ষণ ও তদারকি জরুরি হবে—সেই বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আরও আলোচ্য রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।