প্রেক্ষাপট
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গ্রাম–শহর জুড়ে অপ্রতুল বিদ্যুৎ সরবরাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে শহরে ৮—১০ ঘণ্টা এবং গ্রামে ৪—৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও লোডশেডিং ছাড়া একটিও দিন স্বাভাবিক যাচ্ছে না। উত্থাপিত অভিযোগের একাংশ হচ্ছে—বিদ্যুৎ বিল আগের মতোই আসছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মিটছে না।
সরবরাহ-চাহিদার বাস্তবতা
ফরিদগঞ্জ উপজেলার দুইটি সাবস্টেশনের আওতায় মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫শ'। এর ভেতরে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন গ্রাহক প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার এবং কামতা সাবস্টেশনের আওতাধীন গ্রাহক প্রায় ৫৫ হাজার ৫শ'। পল্লী বিদ্যুতের ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মোবারক হোসেন সরকার জানান, নয়াহাটস্থ সাবস্টেশনের ১০টি ফিডারের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ২৩ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত।
| সাবস্টেশন/ফিডার | গড় চাহিদা (মেগাওয়াট) | বর্তমান সরবরাহ (মেগাওয়াট) | প্রায় ঘাটতি |
|---|---|---|---|
| নয়াহাট সাবস্টেশন (১০ ফিডার) | ২৩ | ৯–১৩ | ≈ ৫৬.৫% ঘাটতি (ডিজিএমের হিসাব) |
| কামতা সাবস্টেশন (৬ ফিডার) | ১৩–১৪ | ৫–৭ | বড় অসমতা |
স্থানীয়দের কষ্ট ও অভিযোগ
গ্রামীণ ও পৌর এলাকার অনেক গ্রাহক রাতের বেলা একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কথা জানান। রূপসা গ্রামের আব্দুল ওহাব মিয়া ও আসাদুজ্জামান বলেন, সারাদিনে বিদ্যুৎ কয়বার যায় তা হিসেব রাখা সম্ভব হয় না; রাতে সাত–আটবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেটে যায়; ২০–২৫ মিনিট বিদ্যুৎ আসে, এরপর ঘণ্টা–দেড় ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এর প্রভাব পড়ছে ছোট শিশুরা ও বৃদ্ধদের ঘুম ও স্বাস্থ্যে।
“দ会নদার পুরোনো ব্যবহারের চেয়ে বিদ্যুৎ কম যাচ্ছে, কিন্তু বিল আগের মতোই উঠছে; জুন মাসে আমার বিল আগের মাসের তুলনায় আকস্মিকভাবে বেড়ে ৯ হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে,”
পৌর এলাকার দক্ষিণ কাছিয়াড়া গ্রামের মামুন পাঠান জানান, প্রত্যাশিত ব্যবহারের তুলনায় ভোগান্তি বেশি, তবুও বিল উচ্চমানেই আসে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মোবারক হোসেন সরকার ও কামতা সাবস্টেশনের এজিএম (কম) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে প্রধান কারণ হচ্ছে সরবরাহের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ পরিচালনায় জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি। ডিজিএমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাপ্য বিদ্যুৎ কম থাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং কার্যকর করা ছাড়া উপায় নেই। কামতা সাবস্টেশনে গড় চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় গ্রাহকরা রোজকার যন্ত্রণা সহ্য করছেন।
প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান
- গৃহস্থালি ও ব্যবসা কার্যক্রমে বিঘ্ন: দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ফলে দোকান–কারখানা ও শিক্ষাকেন্দ্রের কার্যকলাপে ব্যাঘাত দেখা দিচ্ছে।
- স্বাস্থ্যগত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি: গরমে শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, চিকিৎসা বা জরুরি সেবায় ভোগান্তি বাড়ছে।
- প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রয়োজন: জনবল ও যানবাহন সম্প্রসারণ, সাবস্টেশন মেরামত ও অতিরিক্ত শক্তি উৎস যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা সহজতর সম্ভব।
ফরিদগঞ্জের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে কখনো কখনো অবিলম্বে পদক্ষেপ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। স্থানীয় গ্রাহকরা আশা করেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে যাতে প্রতিদিনের লাঘব করা যায় এবং ভোগান্তি কমে।
বেলাল হোসেন, চাঁদপুর প্রতিনিধি, WE NEWS