চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় মোবাইল ফোনে সাইবার অ্যাপস ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ জানায়, সোনাপুর গ্রামের শাহ আলম মেম্বারের বাড়ির পূর্ব পাশে সেতুর ওই স্থানে অভিযান চালানো হলে নাহিদুল ইসলাম (২০), সামীম (৩০) ও পারভেজ হোসেন শুভ (২০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা স্থানীয় বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা বলে জানায় থানা।
- নাহিদুল ইসলাম — ২০ বছর, সোনাপুর দীঘিরপাড় এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে।
- সামীম — ৩০ বছর, মসজিদ বাড়ি এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
- পারভেজ হোসেন শুভ — ২০ বছর, চৌকিদার বাড়ি এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশের বক্তব্য
“সাইবার অ্যাপসের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।”
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট কিছু উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে—তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পরে রেকোনিং ও প্রমাণাদি যাচাইয়ের পর থানায় মামলা করা হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রভাব
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা চালানো হয়েছে। অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক জুয়ার বিস্তার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে—এটি শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, সামাজিক নিরাপত্তাও ভাঙতে পারে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। চাঁদপুর অঞ্চলের পরিচালিত নিয়মিত অভিযানে এমন কেস সদ্য সময় ঘিরে উঠে এসেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান স্থল | সোনাপুর, শাহরাস্তি পৌরসভা (৪ নম্বর ওয়ার্ড) |
| গ্রেপ্তারকৃত | নাহিদুল ইসলাম (২০), সামীম (৩০), পারভেজ হোসেন শুভ (২০) |
| আইনি ধার্য | জুয়া প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা |
স্থানীয় সরকার ও পুলিশ খাতে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বললেও, প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় প্রতিরোধ কৌশল ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা। অনেকে বলেন, বিশেষ করে তরুণেরা মোবাইল অরক্ষণ-অবহেলায় খুব সহজে জুয়ার ফাঁদে পড়ে যায়—যাকে প্রতিহত করার জন্য পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
থানার কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তে ধরা পড়া মোবাইল ও অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে; প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাইবার ডিভিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে সোপর্দের পর আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি পদ্ধতি শুরু হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অনলাইন জুয়া—বিশেষত সাইবার অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচালিত—চাঁদপুরে কিশোর ও তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। পুলিশের অভিযানের ত্বরান্বিত পদক্ষেপকে কেউ প্রশংসা করলেও, অধিকতর জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও জোরালোভাবে অনুভূত হচ্ছে।
শাহরাস্তি মডেল থানার এই অভিযানের পরবর্তী ধাপ ও মামলার বিবরণ জানতে আমরা স্থানীয় থানা ও আদালতের বিজ্ঞপ্তি ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাব।