চাঁদপুর থেকে খবর—চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেট সংলগ্ন নিচ তলায় পরিচালিত এস কে শিল্পালয়-এর স্বত্তাধিকারী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চার সদস্য সম্প্রতি আত্মগোপনে থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর মডেল থানার ওসি। এই ঘটনায় বন্ধক রাখা স্বর্ণ ও টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং কয়েকজন চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কী ঘটেছে: নিখোঁজের পরিণতি
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম (১০ম শ্রেণীর ছাত্র) ও ছোট ছেলে রুপম দাস সম্প্রতি পরিবারের ব্যবহৃত ভাড়া বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসা চালাতেন। অনেকে বলেছেন তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ঋণ নিয়ে ব্যবসায়কে সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।
“পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে রয়েছে,”
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি ও থানায় অভিযোগ
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, পিন্টু স্বর্ণবন্ধক ব্যবসায় ন্যায্য মূল্যের চেয়ে কম টাকায় স্বর্ণ বন্ধক নিতেন এবং নির্ধারিত সময়সীমায় তা ফেরত দিতে ব্যর্থ হতেন। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবি করেছেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্বর্ণ ফেরত নিতে গেলে পিন্টু পরদিন আসতে বলছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ও তার পরিবার উধাও হন। রাসেল ২৪ আগস্ট ওই অভিযোগ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
- ভুক্তভোগীদের মধ্যে আছে রঘুনাথপুর, দক্ষিণ গুণরাজদীসহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষ।
- কিছু ভুক্তভোগী দাবি করেছেন স্বর্ণের পরিমাণ হিসেবে ১০ আনা থেকে ১২ আনা পর্যন্তও আছে।
- পিন্টু কয়েকবার দোকানের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন; সবশেষ তিনি আখন্দ মার্কেটে ছিলেন।
স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা বলছেন, পিন্টু দীর্ঘদিন চাঁদপুরে অবস্থান করে মানুষদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে আস্থা অর্জন করেছিলেন। সেই আস্থাই কিছু মানুষকে স্বর্ণ বন্ধক রাখতে প্রলুব্ধ করে তুলেছিল। এখন ব্যবসা বন্ধ ও কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার ফলে শহরের স্বর্ণবন্ধক বাজারে অনির্দিষ্টতা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিখোঁজ সদস্য | পিন্টু দাস, রিমি, প্রিয়ম, রুপম |
| অবস্থান (শেষ) | কুমিল্লা রোড, আখন্দ মার্কেট, চাঁদপুর শহর |
| ভুক্তভোগীদের অভিযোগ | বন্ধক রাখা স্বর্ণ ও টাকা ফেরত না পাওয়া |
| থানার মন্তব্য | ওসি তথ্য নিশ্চিত করেছেন; পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে |
চাঁদপুরের ব্যবসায়িক মহলও এ ঘটনা নিয়ে টেনশনে রয়েছে। কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলছেন, বন্ধক রাখার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা না থাকলে সামগ্রিকভাবে গ্রাহকের আস্থা হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয়দের আশঙ্কা—যদি তালিকাভুক্ত স্বর্ণিকরা তাদের দাবি তুলেন তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
এখন যেসব প্রশ্ন উঠে এসেছে—ব্যবসার ঋণগ্রস্ত হওয়ার কারণ কি ছিল, স্বর্ণের আসল মালিকদের শনাক্ত ও ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে, এবং পিন্টুর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে—এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে বলে থানা জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত সাড়া দিয়ে ঘটনার সারমর্ম উদঘাটন করতে হবে—তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থিক ও মানসিক ক্ষত দ্রুত শোধ হতে পারে।
এই প্রতিবেদনে নাম উল্লেখিত ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং থানার নিশ্চিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী তথ্য হাতে এলে তা পাঠকদের জানানো হবে।
চাঁদপুর প্রতিনিধি
WE NEWS