মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে আবারও প্রাণহানি ঘটল — শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচো এলাকায় যাত্রীবাহী এক বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা সকাল সাড়ে ৮টা-এর দিকে ঘটে বলে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানায়।
দুর্ঘটনার ক্ষণ ও প্রথম সাড়া
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে হাজারগঞ্জগামী ‘আল-আরাফা’ পরিবহনের একটি বাস ও কুমিল্লাগামী বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসটি সামনের অংশ ভেঙ্গে পড়ে এবং অনেকাংশে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গােভান্ধার seorang চালক ও গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা আঘাতপ্রাপ্ত হন; বেশ কয়েকজন বাসের ভেতরে আটকা পড়েন।
মৃত ও আহতদের পরিচয় ও অবস্থান
পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বালুবাহী ট্রাকটির চালক আব্দুল ওহাব (৪০), বাসের চালক কামাল (৩৫)—জেলা গাইবান্ধা—and বাসের হেলপার শোভন (৩০)—বাগেরহাট। আহতদের মধ্যে তিনজনকে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুগীভবন থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
| বিবরণ | সংখ্যা/নাম |
|---|---|
| মৃত | ৩ জন (আব্দুল ওহাব, কামাল, শোভন) |
| আহত (প্রাথমিক) | কমপক্ষে ১৫ জন |
| রেফারড এবং অবস্থার গুরুত্ব | নীলফামারীর আঞ্জুমারা বেগম (৫৫), সহিদুল্লাহ (৬০) ও রংপুরের লিমন (২০) — কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠানো |
উদ্ধার কাজ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান মাসুম রাজা নিলু জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রায় এক ঘণ্টা কাজ করেই হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে মারাত্মক রক্তক্ষরণ আছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
“খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন,”
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আকলিমা জাহান জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণ ও গুরুতর চোট থাকার কারণে তিন জনকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন, কেউ কেউ পরে কুমিল্লা মেডিকেলে যাননি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সড়ক অধিভুক্ততা ও যান চলাচলের অবস্থা
দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা ওই আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দু’টি দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মৃতদেহ তিনটি থানায় রাখা আছে।
- স্থানীয়রা প্রথম ধাক্কা খেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজে সহায়তা করেছেন।
- ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে সময় সাপেক্ষ কাজ করেন।
- পুলিশ উদ্ধারকাজ ও রাস্তাপ্রশাসন করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পটভূমি ও স্থানীয় প্রভাব
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যস্ত যোগাযোগ পথ; দিনে বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। এই ধরনের তীব্র সংঘর্ষ স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায় এবং চিকিৎসা, উদ্ধারপ্রক্রিয়া ও সড়ক চলাচলের উপর তাত্কালিক চাপ সৃষ্টি করে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে; কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত সচেতনতা ও সড়ক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানার প্রয়োজন আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
এই মুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলের সূক্ষ্ম কারণ, যেমন দ্রুতগতিতে অতিক্রম, অনিয়ন্ত্রিত চাকা বা বাস-ট্রাকের যান্ত্রিক ত্রুটি—এসবের বিষয়গুলো তদন্তের পরে স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
চাঁদপুর থেকে বেলাল হোসেন রিপোর্ট করেছেন।