চাঁদপুরের কচুয়ার সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসককে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (এনসিডি) আটক করেছে। আটক অভিহিত চিকিৎসকের নাম ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানী, বয়স ৩৫ বছর। তিনি ওই হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাসস্থান হিসেবে হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ ব্যবহার করতেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে কচুয়ার বিশ্বরোড সংলগ্ন ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশের আবাসিক কক্ষে তাঁকে আটক করা হয়।
“অভিযানে ওই কক্ষে থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে; তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।”
পুলিশি ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মালামালে রয়েছে ৪ পিস ইয়াবা, ২ রোল ফুয়েল পেপার (মাদক সেবনে ব্যবহৃত), বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম এবং ২টি মোবাইল ফোন। গ্রেফতারের পর রাতেই তাকে কচুয়া থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
এ ঘটনার পর হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেসব রোগী এবং তাদের স্বজনরা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের ওপর ভরসা করে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবস্থান ও সেবা গ্রহণ করেন, তারা এখন ইনস্টিটিউশনাল নিরাপত্তা ও তদারকির প্রশ্ন তুলছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপক ও কর্তৃপক্ষের কেউ ঘটনার সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দেননি; তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পদক্ষেপে স্থানীয় কিছু রোগী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
- গ্রেফতার: ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানী (৩৫), আবাসিক চিকিৎসক
- অভিযানস্থল: কচুয়া, সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, তৃতীয় তলা
- উদ্ধারকৃত সামগ্রী: ৪ পিস ইয়াবা, ২ রোল ফুয়েল পেপার, বিভিন্ন সরঞ্জাম, ২টি মোবাইল
- আইনি ব্যবস্থা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা; কচুয়া থানায় হস্তান্তর
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিবরণ
| বস্তু | পরিমাণ |
|---|---|
| ইয়াবা পিল | ৪ পিস |
| ফুয়েল পেপার (রোল) | ২ |
| মোবাইল ফোন | ২টি |
| অন্যান্য সরঞ্জাম | বিভিন্ন |
স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়হীনতা থাকলে এমন ঘটনা সেখান থেকে রোগী নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। হাসপাতালের কর্মস্থলে কর্মীদের পটভূমি যাচাই এবং বারবার তদারকি করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্ন উঠে এসেছে।
চাঁদপুরের কচুয়ার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ওই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের কাছে সাধারণত রোগনিয়োগ ও জরুরি সেবায় ভরসাস্থল। এরকম ঘটনায় রোগীরা হাসপাতালের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও নৈতিক আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাকে এ বিষয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে কিছু রোগী ও স্থানীয়রা।
বর্তমানে মামলার তদন্ত এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ কচুয়া থানা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের যৌথ তত্ত্বাবধানে চলছে। আদালতভিত্তিক কার্যবিধি ও আইন অনুসারে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে—এমনটাই জানিয়েছে এনসিডি কর্তৃপক্ষ।
চাঁদপুরে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়—গত কিছু বছরে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বেশ কিছু মাদক সংশ্লিষ্ট গ্রেফতার ও উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত থেকেছে। তবে হাসপাতালের পরিবেশে এমন ঘটনা আবির্ভাব হওয়ায় তা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও কারণে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিয়ম-কানুন আরও কড়া করা হবে, যাতে রোগী সেবায় কোনো অনৈতিক ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে।
নোট: প্রতিবেদনটিতে থাকা সব তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের প্রাথমিক জানানোর উপর ভিত্তি করে; মামলার তদন্ত চলমান আছে।