নদীবন্দর থেকে সরাসরি আড়ত: সরবরাহ বাড়ায় শীতলতার চালে দাম কমল
পদ্মা ও মেঘনা এলাকার জেলেদের নৌকায় প্রত্যাবর্তন আর বাজারে আমদানির বাড়তি ঢেউ মিলিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন আড়তগুলোতে ইলিশের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে স্থানীয় আড়তে এক কেজি ইলিশের মূল্য আগে যেখানে ছিল ৩,২০০ টাকা, তা কমে এসে বর্তমানে পর্যায়ক্রমে ২,৫০০-২,৬০০ টাকা ঘরের মধ্যে দেখা গেছে।
সদর উপজেলার অনেক আড়তেই এখনই বরফভর্তি ট্রাকে ভর হওয়া মাছ কম পাওয়া যায়—এখানে জেলেরা সরাসরি নদী থেকে ধরাধরা ইলিশ আনে এবং আড়তে বিক্রি করে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত স্থানীয় আড়তগুলো ঘেঁটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলের প্রত্যাবর্তন ও বাজার পরিস্থিতি
হরিণা ঘাটপাশের বহরিয়া এলাকার একজন জেলে—হান্নান গাজী—বলেছেন, কিছু সপ্তাহ ধরে জ্বালানির মূল্য বাড়ায় নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া হচ্ছে কম। তিনি আরও বলেন, “গত দুইদিনে আবার নদীতে ইলিশের বিচরণ বেড়েছে। প্রস্তুতি নিচ্ছি আবারও নদীতে নামব।”
“গত কয়েক সপ্তাহ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া হয়নি। কারণ জ্বালানি খরচ উঠেনি। গত দুইদিন আবার নদীতে ইলিশের বিচরণ বেড়েছে।” — হান্নান গাজী
পাইকার সচরাচর সরাসরি নদী-সংলগ্ন আড়তগুলোয় আসেন কারণ এখানে বরফ না থাকলেও তাজা ইলিশ পাওয়া যায়। কুমিল্লা থেকে এখানে এসে ইলিশ ক্রয় করা একজন পাইকার—খোরশেদ আলম—বলেন, তিনি ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশ ৯ হাজার টাকায় নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সাইজ মিলিয়ে মোট ১৮ হাজার টাকার মাছ ক্রয় করেছেন।
বাজারদরের সূচক ও বিকল্প মূল্য
চাঁদপুরের হরিণা আড়তে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন সৈয়াল জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে আমদানি কম ছিল এবং জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরায় ক্রেতা সংখ্যা কম ছিল। পরবর্তী কয়েকদিনে আবার বিভিন্ন সাইজের ইলিশ ধরা পড়ায় দাম নেমে এসেছে। বর্তমান মূল্যসূচি সম্পর্কে কিছু মৌলিক তথ্য নিচে দেখানো হলো:
| আইটেম | গত সপ্তাহের দাম | বর্তমান দাম |
|---|---|---|
| ১ কেজি ইলিশ | ৩,২০০ টাকা | ২,৫০০-২,৬০০ টাকা |
| ৮০০-৯০০ গ্রাম ইলিশ | — | ১,৮০০-২,০০০ টাকা |
| ছোট সাইজ ইলিশ (প্রতি কেজি) | — | ৭০০-৮০০ টাকা |
প্রবণী মাছ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবং ইলিশ ভেজে যাওয়ায় এই মৌসুমে আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, আমদানি বাড়লে স্থানীয় বাজারে দাম আরও নেমে আসবে।
মৎস্য কর্মকর্তার মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়বে এবং জেলেরা আরও ভাল ফল পাবেন। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্বেগ প্রকাশের কারণ নেই এবং পরিস্থিতি বাদেরচর ও আশপাশের বাজারে স্বাভাবিক হতে পারে।
- আড়তে সরাসরি বিক্রির ফলে পাইকারি ক্রেতারা তাজা ইলিশ পাচ্ছেন, যা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীর জন্য সুবিধাজনক।
- জ্বালানি খরচ ও মৌসুমি বিচরণ বাজার সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে—যা দাম ওঠা-নামায় প্রতিফলিত হচ্ছে।
- স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অফিস পরিস্থিতি নজরদারি করবে বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণ চালানো হবে বলে মৎস্য বিভাগের আশ্বাস পাওয়া গেছে। চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের ঘনতা ও আমদানি—এই দুইয়ের সমন্বয়ই চাঁদপুরের ভোক্তা ও জেলের আয়-ব্যয়ের সামগ্রিক ছবি নির্ধারণ করবে বলে এখানকার ব্যবসায়ীরা মনে করেন।
চাঁদপুর থেকে রিপোর্টিং করলেন, বেলাল হোসেন, চাঁদপুর প্রতিনিধি, WE NEWS।