বরিশাল বিভাগে ভাইরাসজনিত হাম নামক শ্বাসনালী সংক্রমণের প্রকোপ অব্যাহত আছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বিভাগীয় সরকারি হাসপাতালে ১৬ হাজার ৭৫০ রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৩০৩ জন, অথচ বিভাগে মোট প্রাণহানি হয়েছে ৬১ জনের।
গত দুই দিনে দুই শিশুর মৃত্যু
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকমণ্ডলী ও স্বজনরা বলছেন, দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করলেও রোগীর অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যু ঘটে।
জেলা ভিত্তিক ভর্তি ও মৃত্যু-সংখ্যা
দলিলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী বিভাগীয় বিপর্যয়পূর্ণ প্রবণতা বিভিন্ন জেলায় ভিন্ন চিত্র呈 করছে—বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজে মোট ভর্তি ও মৃত্যু উভয়েই উচ্চ।
| জেলা | ভর্তি (রোগী) | মৃত্যু (জন) |
|---|---|---|
| বরিশাল (শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ) | 5,494 | 43 |
| পটুয়াখালী | 4,528 | 0 |
| ভোলা | 1,825 | 7 |
| বরগুনা | 1,350 | -- |
| মোট (বিভাগ) | 16,750 | 61 |
টেবিলে যেখানে নির্দিষ্ট মৃত্যুসংখ্যা অনুপস্থিত, সেখানে রোগতথ্য আংশিকভাবে পাওয়া গেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্যদপ্তর বলছে, জেলা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপনা
বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ও শয্যা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও অক্সিজেন সরবরাহকে কেন্দ্র করে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগের চিহ্ন দ্রুত শনাক্ত ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।
- প্রাথমিক সতর্কতা: হাই ফিভার, কাশি, শ্বাসকষ্ট অথবা শিশুদের ক্ষেত্রে শ্লেষ্মা-অত্যধিক ঘনত্ব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করুন।
- পৃথক ব্যবস্থা: উপসর্গ দেখা দিলে অন্য রোগীর থেকে পৃথক রাখার এবং মুখে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- তথ্য ও সহায়তা: স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সাপ্লাই নিশ্চিত করুন।
বিভাগীয় দফতরের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তারা ইতোমধ্যেই হাসপাতালগুলোতে আয়া-সহ স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি জনসাধারণকে রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানিয়ে দ্রুত پزشکی সহায়তা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে ইতিমধ্যে যে সংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং যে মৃত্যুহারের তথ্য পাওয়া গেছে তা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগজনক। তাই অতিরিক্ত সতর্কতা ও রোগ নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান অনেকে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরামর্শ
হাম রোগে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত দ্রুত অবনতি হতে পারে—বিশেষ করে ছোট শিশু ও যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে। পরিবারগুলোর প্রতি অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তারা চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা না করেন এবং তাপমাত্রা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে সময় হারানো না করে হাসপাতালে নেন।
বিভাগীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, তবে জনস্বাস্থ্য রোধে গৃহীত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভাল পুষ্টি ও দ্রুত চিকিৎসা—ই সবচেয়ে কার্যকর হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা জনগণকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় যাতে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।