বদলগাছী উপজেলার চারমাথা মোড় পুনরায় আন্দোলনের মুখে পড়ল। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ওই মোড়ে সড়ক প্রশস্তকরণ ও গোলচত্বর নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন অপ্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ও যানজট তৈরি হয়।
অবরোধ, ভোগান্তি ও প্রশাসনের মধ্যস্থতা
আন্দোলনকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়কটি অবরোধ করলে জয়পুরহাট-পত্নীতলা ও নওগাঁ রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনগুলো উল্লেখযোগ্য ভোগান্তির শিকার হন। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, অবরোধ চলাকালীন চারমাথা মোড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যানচলাচল ব্যাহত থাকে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে দাবি পূরণের জন্য ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেন। তারা বলেন, ওই সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনির্দিষ্ট ঝুঁকি
মাইলস্টোন স্কুল বদলগাছীর পরিচালক আবু জর গিফারী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “চারমাথা মোড়টি বদলগাছীর গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সংযোগস্থল। সড়কটি অপ্রশস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
অভিযোগগুলো থেকে উঠে আসে কয়েকটি স্থায়ী সমস্যা:
- সড়কের প্রশস্ততা অপর্যাপ্ত হওয়া—দুই দিক থেকে চলাচলের সময় সংকীর্ণতা ও ঘন্টার ভেতরে ঘন যানজট।
- চারমাথায় ইন্টারসেকশন বা গোলচত্বর না থাকায় যানবাহন মোড় নেওয়ার ক্ষতিকর পন্থা এবং দূর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি।
- দীর্ঘদিন ধরে দাবির রেসপন্স না পাওয়া—স্থানীয়রা বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নওগাঁর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতানা খানম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানান, সড়ক প্রশস্ত করণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ হলে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করা হবে এবং বদলগাছী চারমাথায় ইন্টারসেকশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
“সড়ক প্রশস্ত করণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। তা শেষ হলেই কাজ শুরু হবে,”
প্রকৌশলীর এই বক্তব্য অনুযায়ী প্রশাসন সঠিক প্রকল্পগত কাজের কথা বলছে, তবু স্থানীয়দের অধৈর্যতা দেখা যাচ্ছে কারণ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
চারমাথা মোড় বদলগাছীর গুরুত্বপূর্ণ নোড। সড়ক দাবার দীর্ঘস্থায়ী অবহেলা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহনের উপর প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ যানজট পণ্য পরিবহন বিলম্ব ঘটায় এবং যাত্রীদের দৈনন্দিন সময় ও খরচ বাড়ায়। অন্যদিকে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশংকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পরিবারগুলোর উপর আর্থিক ও মানসিক বোঝা বাড়ায়।
| পদক্ষেপ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| অবরোধের সময় | প্রায় ২ ঘণ্টা (টায়ার জ্বালিয়ে) |
| প্রভাবিত রুট | জয়পুরহাট-পত্নীতলা ও নওগাঁ রুট |
| আব্দিকার দাবি | সড়ক প্রশস্তকরণ ও চারমাথায় গোলচত্বর/ইন্টারসেকশন |
| প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি | ভূমি অধিগ্রহণ কাজ চলছে; অধিগ্রহণ শেষ হলেই কাজ শুরু |
ভবিষ্যৎ পথ—স্থানীয়দের অনুরোধ
স্থানীয়রা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ চান। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, শুধু পরিকল্পনা নয়—দ্রুত বাস্তবায়ন চাই যাতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমা শেষে সিদ্ধান্ত না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
এই ঘটনার ফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ছোট্ট একটি সড়কখণ্ডের অবহেলা কত দ্রুত জনদুর্ভোগকে বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তা হলে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমবে ও ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
WE NEWS, নওগাঁ থেকে প্রতিবেদন।