ঠাকুরগাঁও: এসএসসি পরীক্ষার চলতি ফলাফলে জেলার কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক ফলশ্রুতিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সদর ও হরিপুর অঞ্চলের মোট ৫টি বিদ্যালয় থেকে এবারে পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ২৪ শিক্ষার্থী — কিন্তু সবাই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
কোন কোন বিদ্যালয় ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
জেলা শিক্ষা পরিদর্শক এবং স্থানীয় বিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই পাঁচটির মধ্যে চারটি বিদ্যালয় সদর উপজেলার এবং একটি হরিপুর উপজেলার। প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও ফলাফল নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো।
| বিদ্যালয়ের নাম | পরীক্ষার্থী (সংখ্যা) | পাসের সংখ্যা |
|---|---|---|
| আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় | 4 | 0 |
| অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয় | 7 | 0 |
| মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় | 5 | 0 |
| তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় | 5 | 0 |
| রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (হরিপুর) | 3 | 0 |
স্থানীয়দের উদ্বেগ, প্রশ্ন শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিয়েও
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা বলেন, এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর একসাথে অকৃতকার্য হওয়া কেবল পরীক্ষার দিন ঘটতেও পারে না — এর পেছনে দীর্ঘকাল ধরে চলমান উপস্থিতি সংকট, পাঠদানের গুণগত অভাব এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পর্যাপ্ত সংযোগহীনতা কাজ করছে বলে তারা মনে করেন। একজন অভিভাবক বলেন যে, বিদ্যালয়ের নিয়মিত প্র্যাকটিস পরীক্ষা কিংবা ক্লাস উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে।
অপরদিকে শিক্ষক সমাজও জানিয়েছেন, অনিয়মিত উপস্থিতি, পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী ও শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামোর অভাব থেকে শিক্ষার মান খর্ব হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে অনতিবিলম্বে পাঠদানশৈলী ও পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যস্ত করার প্রয়োজন আছে বলে তাদের মত।
জেলার শিক্ষা প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ
জেলা শিক্ষা অফিসের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেছিলেন যে ফলাফল নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত পরিস্থিতি আত্মপৃক্ষ করবে। শিক্ষার্থীদের রাজ্যের ফল বিশ্লেষণ করে খতিয়ে দেখা হবে কোথায়গুলি ঘাটতি—শিক্ষকগণ কি ঠিকভাবে পাঠ দিয়েছেন, বা অ্যানিক্যাল উপস্থিতি কেমন ছিল ইত্যাদি। তিনি বলেন, সমস্যা চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে বহুস্তরীয় হস্তক্ষেপ করবে জেলা শিক্ষাবিভাগ।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুল পরিদর্শন বাড়ানো হবে, শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করানো হবে ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার জন্য বিশেষ কোচিং বা সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হতে পারে।
অনুসন্ধান্য কারণ ও সম্ভাব্য করণীয়
- বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার অভাব—মধ্যবর্তী ও সময়োপযোগী টেস্টের স্বল্পতা;
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত ক্লাস অভাবে পাঠ্যসূচির অসম্পূর্ণতা;
- অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, পাঠ্যসামগ্রী ও শিক্ষণ-শিক্ষিকার ব্যবস্থা;
- অর্থনৈতিক কারণে পড়াশোনায় অনাদর বা ছাত্রদের বাইরে কাজে নিয়োজিত থাকা;
- বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা।
শিক্ষাব্যবস্থার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কারণের কোনো একক কারণ যদি দোষারোপ করা হয় তা হবে অনুপযুক্ত; বরং একাধিক অনুঘটক একত্রিত হয়ে এমন ফল তৈরি করেছে।
অবলম্বনযোগ্য পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্থানীয় স্কুল কমিটি ও অভিভাবকরা দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। তারা চাইছেন—প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শক্ত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা এবং শিক্ষা অফিস থেকে মনিটরিং বৃদ্ধি সহ আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা।
এই ফলাফল জেলা শিক্ষা ব্যবস্থার এমন সময়ে আলোচ্য হয়েছে যখন সারাবিশ্বে শিক্ষার মান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সামনে এখন তাৎক্ষণিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
এ সংবাদ প্রকাশের সময় জেলা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি; ফলে বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণকৃত পরবর্তী ব্যবস্থাগুলো আগামিকালে জেলাবাসীর নজরে এসেছে কিনা তা নিরীক্ষণ করা হবে।