ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নাছিমুল আলমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাকে তলব করেছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাকুর আলম মজুমদারের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযোগের পরিচয় ও অনুরোধ
চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষককে উচ্চতর স্কেল/বিএড স্কেল প্রদানের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে এমইএমআইএস (EMIS) সিস্টেমে ফাইল প্রেরণের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হল—
| পদবী | নাম | অভিযোগ |
|---|---|---|
| সহকারী মৌলভী | মো. সাইদুর ইসলাম | উচ্চতর স্কেলে নামলেখার জন্য ইউএনওর স্বাক্ষর জাল |
| সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) | মো. মুসা | উচ্চতর স্কেলে নামলেখার জন্য ইউএনওর স্বাক্ষর জাল |
| সহকারী শিক্ষক | মম্তাজ পারবিন | উচ্চতর স্কেলে নামলেখার জন্য ইউএনওর স্বাক্ষর জাল |
অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও সময়সীমা
ছকবন্দিকরণ ও ফাইল পরিবেশনের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মো. নাছিমুল আলমকে তলব করে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টতা ও দায় কেন নির্ধারণ করা হবে না—তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পেশ করতে হবে।
“ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল পাওয়ার লক্ষ্যে মেমিস সিস্টেমে ফাইল প্রেরণের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা ও দায় কেন নির্ধারণ করা হবে না, তার সন্তোষজনক লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা … প্রাপ্তির ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে উপস্থিত হয়ে প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।”
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদরাসা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ। প্রশিক্ষণ ও বেতনস্কেলে পরিবর্তন শিক্ষকের পেশাগত ও আর্থিক অবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। এমতাবস্থায় যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের পেশাগত শাস্তি, এমপিও তালিকা থেকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে অপসারণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরদিকে, তৎক্ষণাৎ তদন্ত না হলে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিকূল প্রভাব ও প্রতিষ্ঠানটির সুনামের ক্ষতিও হতে পারে।
পরবর্তী কার্যক্রম ও প্রতীক্ষা
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা না পেলে পরবর্তী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে—চিঠিতে সেটির ইঙ্গিত রয়েছে। তদন্ত চলাকালে স্থানীয় শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন পর্যালোচনার বিষয়।
এ পর্যন্ত মাদরাসার পক্ষ থেকে বা অভিযুক্তদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া সংবাদ সম্মুখে না এলে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কষ্টসাধ্য। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কাগজিপত্র ও তলব সংক্রান্ত নির্দেশনাই পাওয়া তথ্যের মূল উৎস। তদন্তের অগ্রগতি পাওয়া মাত্র WE NEWS পাঠকদের জানাবে।
- অভিযোগকৃত: মো. নাছিমুল আলম (ভারপ্রাপ্ত সুপার)
- নাম জড়িত শিক্ষক: মো. সাইদুর ইসলাম, মো. মুসা, মম্তাজ পারবিন
- অধিদপ্তরের নির্দেশ: তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দাখিল