শিক্ষা ঠাকুরগাঁও ঠাকুরগাঁও (33)

ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে পাসের হার শূন্য: শিক্ষা তদারকি নিয়ে উদ্বেগ

ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ২৪ শিক্ষার্থীই এবার অকৃতকার্য হয়েছেন। বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ নিয়ে জেলায় তীব্র প্রশ্ন ওঠেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে পাসের হার শূন্য: শিক্ষা তদারকি নিয়ে উদ্বেগ
©অলংকরণ ফারহানা রহমান / we-news.com

ফলাফল ও প্রাথমিক বিশ্লেষণ

সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ফলাফলে ঠাকুরগাঁও জেলায় পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া মোট ২৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হননি। শূন্য পাসের তালিকাভুক্ত চারটি বিদ্যালয় সদর উপজেলার এবং একটি হরিপুর উপজেলার। ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় স্কুল সংস্কৃতি, পাঠদানের নিয়মিততা ও প্রশাসনিক তদারকির ওপর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

কোন কোন বিদ্যালয় থেকে কেউ পাস করেনি

বিদ্যালয়ের নাম পরীক্ষার্থী সংখ্যা
অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়
মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
তাওরিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (হরিপুর)

স্থানীয় কারণ ও শিক্ষকদের ব্যাখ্যা

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষকের উপস্থিতি অনিয়মিত। অভিভাবকদের সচেতনতা ও আর্থসামাজিক দুর্বলতাও পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রভাবিত করছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। একই সঙ্গে কিছু শিক্ষকের কথায়, গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোতে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠে বা বাড়ির কাজ করতে হয়; ফলে নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি বেড়ে যায়।

"তার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসত না। অভাবের সংসারে অনেক শিক্ষার্থী বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে যায়,"

এই কথা আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে সংবাদ উৎসে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহেরুল ইসলামও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকেই দায় চাপিয়ে বলেছেন।

জেলা পাসের সার্বিক চিত্র ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

জেলা পর্যায়ের মোট পাসের হার এবার ৫৫.৯০ শতাংশ দেখা গেছে। জেলায় মোট ১৭,৬৮৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯,৮৮৬ জন এবং ১,৪৬৪জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে এই সমষ্টিগত সাফল্যের মাঝেই কিছু প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাস স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

"পাঁচটি বিদ্যালয়ে একজনও পাস না করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন এমন ফলাফল হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,"

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ফলাফলের কারণ যাচাই করে শিক্ষা মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রভাব ও আগামী করণীয়

এসএসসি ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়া একটি সংকেত, যা শুধুমাত্র ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধ নয়—এটি স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান, পরিবার-চাকরসংকট ও বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির অভাবকে দেখায়। দ্রুত তদন্ত এবং ইন্টারভেনশনের প্রয়োজন রয়েছে যাতে আগামি বছরের পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

  • স্থানীয় শিক্ষা অফিসের তদারকিতে দ্রুত শুখণ্ড অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
  • বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদানের নিয়মিত উপস্থিতি ও ক্লাস মোড উন্নয়নে মনিটরিং বাড়াতে হবে।
  • অভিভাবক সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিকল্প শিক্ষাবাড়ি বা টিউটরিং ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

জেলা প্রশাসন বা শিক্ষা অফিস থেকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা জানানো না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জনসাধারণ এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিরা আশা করছেন, শুষ্ক সংখ্যাতত্ত্বের বাইরে গিয়ে গোড়াপত্তনমূলক সমাধান ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই জাতীয় দুরবস্থা ছড়ায় না।

ফারহানা রহমান
ফারহানা এআই শিক্ষা সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ফারহানা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

33ঠাকুরগাঁও

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ঠাকুরগাঁও, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব