ঠাকুরগাঁও শহরের ভোরের নীরবতা ভেঙে সকালে স্লোগান কণ্ঠে উঠে—“সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে শহরের আব্দুর রশিদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়েছে ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬। ঠাকুরগাঁও রানার্স আয়োজিত এবং মেসার্স গার্ডেনিয়ার তত্ত্বাবধানে হওয়া এই আয়োজনটি দেশের ২৩তম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উৎসর্গ করা হয়।
অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতার ভাবনা
আয়োজকরা জানান, পুরো প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২৭০ জন দৌড়বিদ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণ দৌড়বিদ পর্যন্ত—বয়সের বিচিত্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলার আমোদ-প্রমোদ ছাড়াও যে উদ্দেশ্যটি বিশেষভাবে সামনে রাখা হয়েছিল তা ছিল—শরীরচর্চার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকের মতো নেতিবাচক অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে উৎসাহিত করা এবং ঠাকুরগাঁও জেলার ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানগুলো দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা।
বিশেষ অতিথি ও বক্তৃতা
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উদ্বুদ্ধ করে বলেন যে শারীরিক চর্চা ও খেলাধুলাই তরুণদের মধ্যে সৃজনশীল উদ্দীপনা জাগাতে পারে এবং মাদক ও অনাকাঙ্ক্ষিত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া
গাজীপুর থেকে এসে অংশ নেওয়া ৭৯ বছর বয়সী এক প্রবীণ দৌড়বিদ আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন,
“ছোট ছোট তরুণদের এমন নিখুঁত ও সুন্দর আয়োজন আমাকে অভিভূত করেছে। এই বয়সেও ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা পেয়েছি।”
ম্যারাথনের ২১ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান প্রাপ্ত রানার ওমর ফারুক জানান, তারা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়ে খুশি হয়েছেন। এই ভ্রমণ অংশগ্রহণকারীদের জন্য শুধু ক্রীড়াসাহিত্য নয় বরং পর্যটন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছিল।
আয়োজকদের উদ্দেশ্য ও স্থানীয় সমর্থন
ঠাকুরগাঁও রানার্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মেসার্স গার্ডেনিয়ার স্বত্বাধিকারী মো. নূর-এ-শাহাদৎ স্বজন বলেন,
“ক্রীড়ানুরাগী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি সম্মান জানাতেই এই ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে। দৌṛের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে পুরো দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরাই ছিল আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”
আয়োজনটি স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংগঠকদের সমর্থন পেয়েছিল। অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার তানভীর তানুসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তার পাশাপাশি ক্রীড়া সংগঠক মো. ফারুক হোসেন জুলুও ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত।
আলোচ্য কার্যক্রমের ধরণ ও সময়সূচি
ম্যারাথনটি ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হয়ে প্রতিযোগিতা শেষে সকাল ১০টায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। আয়োজকরা আগেভাগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একটি অফিশিয়াল ‘কিট এক্সপো’ও আয়োজন করেন, যেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি মিরজা ফয়সাল আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
- আয়োজনকারী: ঠাকুরগাঁও রানার্স
- সার্বিক তত্ত্বাবধান: মেসার্স গার্ডেনিয়া
- প্রধান পৃষ্ঠপোষক: মো. নূর-এ-শাহাদৎ স্বজন
- অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা: ২৭০
- ক্যাটাগরি: ২১ কিলোমিটার (হাফ ম্যারাথন)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আয়োজক | ঠাকুরগাঁও রানার্স |
| প্রথম স্থান (২১ কিমি) | ওমর ফারুক |
| অংশগ্রহণকারী | ২৭০ জন |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী পরিকল্পনা
স্থানীয় পর্যায়ে এমন ধরনের আয়োজন কেবল স্পোর্টস ইভেন্টেই সীমাবদ্ধ থাকে না—এগুলো স্থানীয় অর্থনীতি, হসপিটালিটি ও পর্যটনের জন্যও উৎস হয়ে দাঁড়ায়। আয়োজকরা বলছেন, তারা ভবিষ্যতে আরও বেশি জেলা ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ আকর্ষণ করে আয়োজনে বৈচিত্র্য আনতে চান—তবে সেসব পরিকল্পনার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এই হাফ ম্যারাথন থেকে উঠে আসা বার্তা স্পষ্ট—শরীরচর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জেলাকে কেন্দ্রে রেখে স্থানীয় পরিচয় তুলে ধরা। সরল অঙ্গভঙ্গি ও ভোরের কোলাহল মিলিয়ে তৈরি হলো এক সকালে মানুষের সংযোগের গল্প, যা স্থানীয় কল্যাণ ও ক্রীড়াসাহচর্যের নতুন দিক নির্দেশ করে।