ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা সীমান্তের মন্ডলপাড়া গ্রামে শেয়ালের আক্রমণে আহত আমিনা বেগম (৪৫) মারা গেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও চিকিৎসা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ২৩ দিন আগে মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে শেয়াল আমিনার ওপর হামলা করে। আক্রান্ত হওয়ার ফলে তার নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয়। তখন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ জলাতঙ্ক রোধক টিকা দেওয়া হয়। পরে বাড়ির লোক বাজার থেকে আরও টিকা এনে প্রয়োগ করেন।
ঘটনার ১৭ দিন পর আমিনা পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুখ দিয়ে লালা পড়া এবং বমি-ক্ষুধা হ্রাসের মতো জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও জীবনযাত্রায় প্রভাব
জনা যায়, সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে শেয়ালের উপস্থিতি নিয়ে বর্তমানে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে ওই এলাকায় শেয়ালের আক্রমণে কয়েকটি গবাদি পশুও মারা গেছে। দুর্বৃত্ত শেয়ালটিকে স্থানীয়রা পাগলবক্তে মর্য চক্করে পড়েছে বলে ধারণা করছেন এবং পরের দিন গ্রামের লোকজন সেটিকে পিটিয়ে মারা ফেলেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কৃষকরা বলছেন, এখন মাঠে গবাদি পশু বা ছাগল চরাতে গেলে লাঠি হাতে পাহারা দিতে হয়। সীমান্তবর্তী জমিতে ভুট্টা চাষ বাড়ার কারণে শেয়ালের আগমন বাড়েছে—এই অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় মন্তব্য
“মাঠে ছাগল চরাতে গেলে এখন আমরা সবাই সতর্ক থাকি; রাতে কেউ বের হতে সাহস করে না,”
এমন মন্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে শোনা গেছে। নিহতের ছেলে আমিরুল ইসলাম ও এলাকাবাসী চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনা ও প্রতিক্রিয়ার সময়রেখা
| ঘটনার ধাপ | সময়কাল |
|---|---|
| শেয়ালের আক্রমণ | প্রায় ২৩ দিন আগে |
| প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা | প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল |
| আবার অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি | ঘটনার ১৭ দিন পর, রংপুর মেডিকেল কলেজ |
| মৃত্যু | ১৮ এপ্রিল (রংপুর মেডিকেল কলেজ) |
পরবর্তী প্রভাব এবং প্রয়োজনীয়তা
ঘটনাটি সীমান্তশুমারি ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। সীমান্তীয় অঞ্চলে কৃষিজমি বাড়ার সঙ্গে সাপ-শেয়ালসহ বন্যপ্রাণীর ক্রিয়াশীলতা পরিবর্তিত হচ্ছে—স্থানীয়রা এই চিন্তা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া রোগনিয়ন্ত্রণ, দ্রুত টিকা সরবরাহ এবং জনসচেতনতার তাগিদও জোরদার হয়েছে, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে জখম শুকাতে না পারা ও পরে জটিলতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসাক্রমে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
- স্থানীয়রা জানান সীমান্তে ভুট্টার আবাদ বাড়ায় শেয়ালের আকর্ষণ বেড়েছে।
- কয়েক সপ্তাহে একই এলাকায় গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
- আতঙ্কের কারণে এখন মাঠে পশু চরানো ও সন্ধেয় বাইরে চলাচলে মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সংবাদ সংগ্রহকালে পাওয়া যায়নি। আহত পরিবার ও এলাকাবাসী চাইছেন—শেয়াল পর্যবেক্ষণ, দ্রুত টিকা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ রিপোর্টে ব্যবহার করা তথ্য স্থানীয় সংবাদ সূত্র ও নিহত পরিবার ও এলাকাবাসীর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।