ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলা জুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে শূন্য% পাসের খবর। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডভুক্ত ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম হলো— আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (সদর), অনভারদিঘি উচ্চ বিদ্যালয় (সদর), মাধবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (রুহিয়া), তাঁওরিগাঁও উচ্চবিদ্যালয় (ভূল্লী) এবং রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (হরিপুর)।
সংখ্যাগত ও বাস্তব চিত্র
রিপোর্ট অনুসারে একটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন—অনভারদিঘি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। অন্যদের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা চারজনের কম বা কাছাকাছি ছিল। মাধবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারে পাঁচজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। স্কুলটির মাঠে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে জরাজীর্ণ ভবন, কম উপস্থিতি ও টিনের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিশোরী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে মাধবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৯৬ সালে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০২৩ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা সাতজন এবং কর্মচারী পাঁচজন। তবে শ্রেণি অনুযায়ী কাগজে-কলমে যে ছাত্রী সংখ্যা দেখানো হয়, বাস্তবে উপস্থিতি সেই পরিসংখ্যানের থেকে কম—বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩০, সপ্তমে ২৮, অষ্টমে ২৬, নবম ও দশমে ২৫-২৫ জন আছে; তবে মাঠে মাত্র নয়জনকে পাওয়া গেছে।
স্থানীয় মন্তব্য ও পরিচালনা সংক্রান্ত উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, কাগজে-কলমে অনেকসময় বেশি সংখ্যা দেখানো হয়, বাস্তবে স্কুলে উপস্থিতি ও পাঠদান সেভাবে হয় না। মাধবপুর গ্রামের এক দোকানদার রহিম আলী সংবাদ কর্মীদের সাথে কথা বলে বলেন, স্কুলে দেখানো শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবের চেয়ে বেশি। তিনি মনে করেন লেখাপড়া নিয়মিতভাবে হচ্ছে না।
“কাগজে-কলমে যত শিক্ষার্থী দেখানো হয়, বাস্তবে তত নেই। লেখাপড়াও ঠিকমতো হয় না,”
রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত এবং ২০০৩ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে অংশগ্রহণ করে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে এবারের পরীক্ষায় তিনজন অংশ নিয়েছিলেন; কেউ পাস করেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোয়াবুর রহমান বিষয়টি নিয়ে বলেন, এমন লজ্জাজনক ফল আগে কখনো দেখেননি।
কীগুলো চেক করা প্রয়োজন
এ ঘটনায় অভিভাবক, স্থানীয় শিক্ষক ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকে দ্রুত কারণ অনুসন্ধান ও সমাধান দাবি করা হচ্ছে। সম্ভাব্য কারণগুলো যা যাচাই করা উচিত:
- শিক্ষক ও শিক্ষা সহায়ক কর্মীর প্রকৃত উপস্থিতি ও যোগ্যতা
- স্কুলভিত্তিক পাঠদানের নিয়মিত তদারকি ও অনুপস্থিতির কারচুপি
- অবকাঠামো—শ্রেণিকক্ষ, পাঠ্যবই সরবরাহ ও নিরাপদ পরিবেশ
- ছাত্রসংখ্যার বাস্তব চিত্র বনাম কাগজে দেখানো পরিসংখ্যান
এতে স্থানীয় প্রশাসনও উদ্বিগ্ন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলে জানিয়েছেন, কেন এমন ফল হলো তা তদারকি ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে বের করা হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন কথা জানান তিনি।
তথ্যসূচক সারি
| বিদ্যালয়ের নাম | অবস্থান (উপজেলা) | এবার পরীক্ষার্থী সংখ্যা (প্রতিবেদন) |
|---|---|---|
| আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় | সদর | প্রতিবেদন অনুযায়ী চারজনের কম |
| অনভারদিঘি উচ্চ বিদ্যালয় | সদর | সাতজন |
| মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় | রুহিয়া | পাঁচজন |
| তেঁওরিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় | ভূল্লী | প্রতিবেদন অনুযায়ী কমজন |
| রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় | হরিপুর | তিনজন |
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে মিলিয়ে দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই জেলার শিক্ষার মান নিয়ে আরও উদ্বেগ বাড়বে। কেবল ফলাফলের সংখ্যা না দেখে বিদ্যালয়ের ভিতরের পাঠদান, উপস্থিতি, পাঠ্যসহায়তা ও অবকাঠামো নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত প্রয়োজন—এমনই মত এলাকাবাসীর।
অবশেষে, হতাশ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগ কী মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষামূলক সহায়তা দেবে, সেটাও টেকসই সমাধানের অংশ হওয়া উচিত। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন—তবে দ্রুত কার্যক্রমের আহ্বান স্থানীয় স্তর থেকে কার্যত উচ্চ।