সিলেট বিভাগে হাম (রুবেলা/হ্যাম) ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে গত কয়েক দিনে দুই শিশুর মৃত্যু এবং হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ার খবর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে এই তথ্য জানানো হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও মৃত্যু
মৃত শিশু দুজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয়— গোয়াইনঘাট উপজেলার বদরুল ইসলামের ১ বছর ৭ মাস বয়সী ছেলে আরাফাত ইয়াছিন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সামির হুসনের ৫ মাস ১৫ দিন বয়সী ছেলে মো. সাইফান।
“হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১১৯ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাম ও সন্দেহজনক হামসহ ১৩১ শিশু এবং এক নার্সসহ একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে।”
এই বক্তব্যটি দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
সংখ্যার পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪২ জনে। জেলা ভিত্তিক বিভাজন নিম্নরূপ:
| জেলা | ল্যাব-নিশ্চিত রোগী |
|---|---|
| সিলেট | ৩০৫ |
| হবিগঞ্জ | ১৩৯ |
| মৌলভীবাজার | ১৪১ |
| সুনামগঞ্জ | ৩৫৭ |
আরও বলা হয়েছে, ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ৪ জন মারা গেছেন; হাম ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার ভর্তি ও হাসপাতাল বেড অবস্থা
বিগত এক দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালভিত্তিক ভর্তি সংখ্যা:
- শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল: ৪৮
- সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৫৭
- নর্থ ইস্ট হাসপাতাল: ৩
- রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ: ২
- মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল: ৫
- সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল: ৪
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মোট সংখ্যা ২৮০, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতাল অনুযায়ী বিভাজন:
- শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল: ১১৫
- সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১০০
- রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১৩
- সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল: ৩০
- মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল: ৮
- অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতাল: বিবিধ
জনস্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমূলক পরামর্শ
হাম সাধারণত ছোঁয়াচে রোগ; শিশুরা এতে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। নিউমোনিয়া যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছে।
পরামর্শ হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা, অসুস্থ শিশুকে দ্রুত হাসপাতাল নেয়া এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। বয়সভিত্তিক ভ্যাকসিনেশনের তালিকা পরীক্ষা করে অনুপস্থিত ভ্যাকসিন থাকলে তা সম্পন্ন করতে বলা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রস্তুতি
সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা প্রণালী বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে বলে দেখা যায়—বৃহৎ সংখ্যক সন্দেহভাজন রোগীর ভর্তি, এবং আইসিইউতে শিশুর মৃত্যু এই সংকটের দিক নির্দেশ করে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত বেড, অক্সিজেন ও চিকিৎসাসামগ্রী আছে কি না এবং দ্রুত আক্রান্তদের নজরদারি করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের তথ্যই আপাতত আমাদের একমাত্র নির্ভর যোগ্য সূত্র। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে; তাই জনসাধারণকে অফিসিয়াল সূত্রের সংবাদ ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে।
WE NEWS সিলেট স্থানীয় ব্যুরো এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে; ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বিভাগ বা হাসপাতাল থেকে নতুন কোনো বিবৃতি এলে তা পাঠকদের জানানো হবে।