সিলেট বিভাগে হাম সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের ১১ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন করে ২৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৪ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা ও শনাক্তের চিত্র
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে প্রধান দুই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি—শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩৭ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯ জন।
- নতুন শনাক্ত: ২৪ (১ জানুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত রোগী সংখ্যা: ৮৭৬)
- গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি: ৯২ জন
- বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহভাজন রোগী: ২৯৪
- সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু: ১২৮
জেলা ও হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি
জেলাভিত্তিক নিশ্চিত আক্রান্তের বিবরণে সিলেট জেলায় ২৮৭, হবিগঞ্জে ১১৬, মৌলভীবাজারে ১২০ এবং সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৫৩ জন আক্রান্ত হিসেবে নাম ওঠেছে। জেলা ভিত্তিক সন্দেহজনক মৃত্যুতে সিলেট ৪২, হবিগঞ্জ ১৬, মৌলভীবাজার ১২ এবং সুনামগঞ্জ ৫২ জনের কথা প্রতিবেদনে বলা আছে—যেমন চিন্তার বিষয়, সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা বর্তমানে ১২৮.
| হাসপাতাল/কেন্দ্র | বর্তমান ভর্তি সন্দেহভাজন রোগী (জন) |
|---|---|
| শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল | ১৩৭ |
| ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | ৭৯ |
| রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ | ১৪ |
| নর্থ ইস্ট হাসপাতাল | ৬ |
| গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | ৪ |
| বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | ২ |
| সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল | ৩৪ |
| হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল | ২ |
| মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল | ১৬ |
শেষ হয়ে যাওয়া একটি মৃত্যু ও প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ৭ মাস এবং সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা। শিশুটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে, বিভাগে রোগী ভর্তি ও শনাক্তের হার চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর চাপ বাড়ায় স্বাস্থ্যসেবার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পরীক্ষার মুখে পড়েছে—বিশেষ করে শিশুদের ইনফেকশন ও সুষম পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।
সতর্কতা ও নাগরিকদের জন্য তথ্যাদি
বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্ব বহন করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি:
- তীব্র জ্বর, খusufকস, চর্মর্যাগ, কনজাংটিভাইটিস বা অন্যান্য শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে দ্রুত যোগাযোগ করা।
- শিশুদের টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখা।
- হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের রিপোর্টই হলো এই প্রতিবেদনের সূত্র। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানদের রোগীর সঠিক শ্রেণিবিভাগ, পরীক্ষার দ্রুততর ব্যবস্থা এবং বাড়তি শয্যা ও অক্সিজেন সুবিধা জোগাড়ে তৎপর হওয়া জরুরি হবে—বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য।
অবস্থা কড়া নজরদারিতে রাখা না হলে হাসপাতালে চাপ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে—এ যে কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের সমন্বিত কর্মসূচি এবং জনগণকে সচেতন রাখা প্রয়োজন।