সিলেট বিভাগে হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গে উদ্বেগজনকভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তাজা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মারার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭। একই সময়ে নতুন করে ২৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতাল ভর্তি ও চিকিৎসাধীন রোগীর চিত্র
স্বাস্থ্য বিভাগের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে বিভাগীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন।
বর্তমানে বিভাগীয় বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ৩০৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৫৭ এবং ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে ৮১ জন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মৃত্যুর ভৌগোলিক বণ্টন ও শনাক্তকরণ
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ছিল ৭ মাস এবং অপরজনের ১ বছর ৩ মাস। একজন ছিলেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার এলার বাসিন্দা, আর অন্যজন কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট জেলার অংশ) থেকে। তাদের দুজনকেই সিলেটের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান হিসাব অনুসারে চলতি বছরে সন্দেহজনক হাম সদৃশ উপসর্গে মারা গেছেন ১২১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন আরও ৬ জন—মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭। জেলা ভিত্তিক মৃতের হিসাব নিম্নরূপ:
| জেলা | সন্দেহজনক | নিশ্চিত | মোট |
|---|---|---|---|
| সুনামগঞ্জ | ৫২ | ১ | ৫৩ |
| সিলেট | ৪১ | ৪ | ৪৫ |
| মৌলভীবাজার | ১৩ | ০ | ১৩ |
| হবিগঞ্জ | ১৬ | ০ | ১৬ |
সনাক্তসংখ্যা ও বিভাগীয় মোট
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগের মোট ৮৫২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে শনাক্ত হয়েছে ২৮০, হবিগঞ্জে ১০৯, মৌলভীবাজারে ১১০ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৩ জন।
- বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা: ৩০৯
- গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন নিশ্চিত শনাক্ত: ২৫
- সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ২ শিশু
এই সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রবণতা সিলেট বিভাগের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগবৃদ্ধি রোধে এবং সাময়িক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দক্ষভাবে পরিচালিত করতে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোর উপর চাপ বাড়ছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতালগুলো রোগীদের দ্রুত সনাক্তকরণ, পৃথকীকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। বিভাগের অভ্যন্তরে সংক্রমণের স্থান ও গোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ ও টিকাদানসহ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে—তবে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কৌশল বা নতুন উদ্যোগের আলোকপাত করা হয়নি।
সিলেটবাসী ও রোগের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যবিভাগ এবং স্থানীয় হাসপাতালের নির্দেশনা মেনে চলা, লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করা এবং শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে বিরামহীন সংক্রমণ ও বাড়তি মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে থাকা কঠিন হবে।