সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী একদিনে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত করা হয়েছে এবং হাম বা উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১১৯ জন।
বিভাগীয় চিত্র এবং মোট পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম তথ্যগুলো সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিভাগীয় হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪২ জনে। একই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৌখিকভাবে অথবা ক্লিনিক্যালি নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে।
| জেলা | নিশ্চিত হাম রোগী |
|---|---|
| সিলেট | ৩০৫ |
| হবিগঞ্জ | ১৩০ |
| মৌলভীবাজার | ১৩৩ |
| সুনামগঞ্জ | ৩৭৩ |
জেলা ভিত্তিকভাবে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুনামগঞ্জ অগ্রগামী। তবুও সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য
শুধু গত একদিনে মৃত্যু হওয়া দুজনই শিশু। তাদের মধ্যে একজন হলেন সিলেটের দুই বছর নয় মাস বয়সী আরাফাত ইয়াছিন, যিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপরজন সুনামগঞ্জের পাঁচ মাস ১৯ দিনের শিশু মো: সাইখান, যিনি সুনামগঞ্জের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
"গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮ জন নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৯ জন,"
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে মোট ২৮০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজসহ সরকারি হাসপাতালগুলিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি রয়েছেন।
মৃত্যুর বিশ্লেষণ ও উদ্বেগ
স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক হিসেব বলছে, চলতি বছর হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে মারা যাওয়া ১৩৩ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মারা যাওয়া মাত্র ৬ জন; বাকি ১২৭ জন মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। জেলাভিত্তিকভাবে সিলেটে মারা গেছে ৪৮, হবিগঞ্জে ১৭, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৫ জন। মৃত্যুর দিক থেকেও সুনামগঞ্জ অগ্রগামী।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক আট দিনে ১৩ জনের মৃত্যু এবং তাদের বড় অংশের শিশুকন্যা হওয়ায় জনস্বাস্থ্যগত উদ্বেগ কাঁটিয়ে উঠেছে। ধারাবাহিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা ও রোগনিয়ন্ত্রণে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্যে প্রভাব ও নাগরিকদের করণীয়
হতাহত বৃদ্ধি ও হাসপাতালে রোগীর চাপের কারণে পরিবারের শৌর্যসংহার, শিশু ও প্রবীণদের পাশাপাশি রোগালয়ে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও সংস্থানও চাপের মুখে পড়েছে। নাগরিকদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় মনে রাখার দরকার—
- জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
- শিশুদের খাদ্য ও পানীয় পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং জীবাণু থেকে রক্ষা করুন।
- হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ফোনে যে তথ্য পাওয়া যায় তা যাচাই করে নিন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যান।
তবে এই প্রতিবেদনে আমরা কোন চিকিৎসাগত পরামর্শ দিচ্ছি না; উপসর্গ দেখা গেলে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বা অতিরিক্ত সংস্থান যোগ করা হচ্ছে—এর বিস্তারিত জানানো হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া গেলে আপডেট জানানো হবে।