নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্ট ও তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত ও বৈধ অনুমোদনবিহীন শত শত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এফ এম নাঈম হাসান শুভ।
অভিযান ও ঘটনাপ্রবাহ
স্থানীয় সময় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারারচর মদিনা জুটমিল এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সংশ্লিষ্ট লাইনগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাস নরসিংদী অফিসের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
জরিমানা ও আর্থিক হিসাব
অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগে অভিযানে নামজাদা কয়েকজনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ঘটনায় নামজাদা ব্যক্তিদের মধ্যে বাড়ির মালিক আওয়াল ভূইয়াকে ২ লাখ টাকা, রোসন আক্তারকে ৪০ হাজার টাকা এবং মো. মুসলেম মিয়াকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
| বিষয় | সংকেত/অবস্থা |
|---|---|
| অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন | ২ শতাধিক |
| নির্দিষ্ট জরিমানা (উল্লেখিত) | ২ লাখ, ৪০ হাজার, ২ লাখ |
| প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতি (প্রায়) | এক কোটি ৩০ লাখ টাকার |
| অভিযান স্থান | কারারচর মদিনা জুটমিল, শিবপুর |
তিতাস গ্যাসের ভূমিকা ও মন্তব্য
তিতাস গ্যাস নরসিংদী কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ইমারজেন্সি) আহম্মদ উল্লাহ সংবাদ সংস্থাকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকাতে বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করে যে এসব সংযোগ দীর্ঘস্থায়ীভাবে এবং অনুমোদন ছাড়া গোপনে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত প্রায় ৫ বছর ধরে এসব অবৈধ সংযোগের কারণে সরকারের অর্থনীতিতে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
- অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন: সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এফ এম নাঈম হাসান শুভ।
- অংশগ্রহণকারী: তিতাস গ্যাসের স্থানীয় কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
- অভিযানের সময়কাল: বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নপত্র
শিবপুরের কারারচর এলাকার অনেক বাড়িতেই দীর্ঘ দিন ধরে অননুমোদিতভাবে গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে—এই তথ্য স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন প্রকাশ করছে। অবৈধ সংযোগের কারণে কেবল আর্থিক ক্ষতি হয়নি, একই সঙ্গে গ্যাস সিস্টেমের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দাবাংভাবে লাইনের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা অল্পতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
অভিযান থেকে বেরিয়ে আসে যে স্থাপনাগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও নিয়মিত রিডিং বা মিটারিংয়ের অভাব অনেক সময় সেসব অবৈধ ব্যবস্থাকে দীর্ঘসূত্রী করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস কর্তৃপক্ষের যৌথ তৎপরতা ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে এক ধাপ এগিয়ে ছিল—এমনই ধারণা সূত্রগুলোর।
এখনো অবধি অভিযানকালে বিপর্যস্ত বস্তু বা নিরাপত্তাহীনতার কোনও তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র বলছে অবৈধ লাইনগুলো স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন ও বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে অনধিকার প্রবেশ বা ব্যবহার বন্ধ রাখা যায়।
নরসিংদীর নাগরিক ও ভোক্তা সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে—বিশেষত আইনগত ব্যবস্থা, মিটার ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন যদি অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন এবং অননুমোদিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানো হয়, তবেই পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন।