অর্থনীতি শেরপুর শেরপুর (16)

শেরপুরে টানা গ্যাসবিচ্ছিন্নতায় ছাই ওঠা রান্না, চার হাজার ঘরবাড়ি প্রভাবিত

গত ১২ আগস্ট রাত ১০টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শেরপুরে প্রায় <strong>৪,০০০</strong> আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজি চালিত পরিবহন কার্যত বন্ধ; তিতাসের লোকাল ব্যবস্থাপক বলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে <strong>৫-৭</strong> দিন লাগতে পারে।

শেরপুরে টানা গ্যাসবিচ্ছিন্নতায় ছাই ওঠা রান্না, চার হাজার ঘরবাড়ি প্রভাবিত
©অলংকরণ নাজনীন সুলতানা / we-news.com

শেরপুর শহরে টানা তিন দিন ধরে নগর ও আশপাশের বাসিন্দারা গ্যাস সরবরাহ না পেয়ে সঙ্কটগ্রস্ত অবস্থায় আছেন। স্থানীয় প্রশাসন বা সরবরাহকারী সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট রাত ১০টাের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং এতে প্রায় ৪,০০০ আবাসিক গ্রাহক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রভাবিত হয়েছে।

কেন বন্ধ রইল গ্যাস?

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান জানান, মাতারবাড়ী ও মহেশখালী এলাকার এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে শেরপুরেও সরবরাহে কোয়াটা কমানো হয়েছে এবং সাময়িকভাবে গ্যাস সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ও বিকল্প ব্যবস্থা

গ্যাসবিহীন অবস্থায় শেরপুরের গৃহস্থালীগুলোতে রান্না-রান্নার বড় সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে; কেউ কেউ বাড়তি খরচ করে হোটেল থেকে খাবার নিচ্ছে, কেউ বাড়ির ছাদে ইট দিয়ে অস্থায়ী চুলা বানিয়ে লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্নার চেষ্টা করছেন। শহরের ভৌগোলিক ও বসতির কারণেই লাকড়ি বা মাটির চুলা ব্যবহার সব জায়গায় যোগ্য নয়।

  • প্রায় ৪,০০০ আবাসিক গ্রাহক গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত।
  • শেরপুরের একমাত্র সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও যানচলাচল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।
  • সরাসরি আয়-রোজগারে প্রভাব পড়ছে সিএনজি চালকদের; পরিবহন খরচ বেড়েছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন।

শেরপুর শহরের রাজাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা শারমিন জাহান বলেন, “কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় ঘরে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে হোটেল থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।” এই ধরনের উদাহরণগুলো নগরে গ্যাস নৈমিত্তিকভাবে না থাকলে পরিবারের অর্থনীতিতে কিভাবে চাপ সৃষ্টি করে তা প্রতিফলিত করে।

পরিবহন ও ব্যবসায়িক প্রভাব

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শেরপুরের সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ছোট পণ্যবাহী যানগুলো বন্ধ বা সীমিত তালিকায় চলছে। সিএনজিচালক আবুল হোসেন স্থানীয়ভাবে জানিয়েছেন, গ্যাস না থাকলে তারা চালাতে পারছেন না এবং কয়েক দিন ধরে কাজ বন্ধ হওয়ায় আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীদের অভিযোগেই দেখা যাচ্ছে অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে, যা ভোক্তা ও দৈনন্দিন শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করছে।

বিষয় তথ্য
প্রভাবিত গ্রাহক ৪,০০০ (আবাসিক)
সরবরাহ বন্ধের সময় ১২ আগস্ট রাত ১০টা থেকে প্রতিবেদন লেখার দিন পর্যন্ত (~৬২ ঘন্টা)
কারণ মাতারবাড়ী ও মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস কমে যাওয়া
আণুমানিক স্বাভাবিক করার সময় ৫-৭ দিন (তিতাসের শেরপুর ব্যবস্থাপক সূত্র)
“গত ১২ আগস্ট রাত ১০টা থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে… সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময়” — মো. বদরুজ্জামান, তিতাস শেরপুর জেলা ব্যবস্থাপক

অতিপৃষ্ঠপোষক বিবেচ্য বিষয় হলো: গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর খাদ্য ও আর্থিক চাপে নেমে আসা, শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী ভাঙন এবং ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়হানি।

শেরপুরবাসী দ্রুত ব্যবস্থা ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার অনুরোধ জানাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় লাগামহীন হলে নগরের ঘূর্ণায়মান দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছে প্রভাবিত নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা।

নাজনীন সুলতানা
নাজনীন এআই অর্থনীতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি নাজনীন, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

16শেরপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো শেরপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব