শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরকুমারিয়া ইউনিয়নের ঢালী কান্দি এলাকার একজন গর্ভবতী নারী (২৩)কে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই গ্রামের ছাত্রদল নেতাকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযুক্ত পরিচয়
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তথ্যমতে, ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ আগস্ট দুপুরে। অভিযোগকারী নারীটির বাড়িতেই একা ছিলেন তিনি। এসময় একই গ্রামের মিলন ঢালী (৩৩) ওই বাড়িতে ঢুকে প্রথমে শ্লীলতাহানি করেন এবং পরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। নারী চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে মারধর করে হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগে অভিযুক্ত মিলন ঢালীকে চরকুমারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গত ৯ আগস্ট ওই নারীর মা সখিপুর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। একই সময়ে আরেকজন আনোয়ার ঢালীর (৩৬) নামও মামলায় উল্লেখ আছে।
পোস্ট-ঘটনা: ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা
মামলা করার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে দেখে হামলা এবং হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মিলন ও তার সঙ্গীরা ফোন করে পরিবারকে হত্যা ও বাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে গত সাত দিন ধরে ওই নারী ও তার পরিবার আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
- তারিখ: অভিযোগ অনুযায়ী ৫ আগস্ট (ঘটনা), ৯ আগস্ট (মামলা)
- অভিযোগকারী: গর্ভবতী নারী, বয়স ২৩ বছর
- অভিযুক্ত: মিলন ঢালী (৩৩), চরকুমারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত
- বর্তমান অবস্থা: মিলন ও কয়েকজন সহযোগী পলাতক; পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিবৃতি
ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় মুরুব্বি ওয়াসিম ঢালী সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন মিলন। আমি সমাজের মুরুব্বি হিসেবে তাকে একাধিকবার নিষেধ করেছি। তারপরেও কথা না শুনে গত ৫ তারিখে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। মেয়েটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ও অসুস্থ। তার চিৎকারে মানুষ এগিয়ে না আসলে মেরেই ফেলতো। মিলন রাজনৈতিক প্রভাবে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পরে ভুক্তভোগীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য
মামলাটি সখিপুর থানায় দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। মামলার বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং তদন্তগত উদ্যোগের ওপরই এখন নির্ভর করছে প্রতিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
| ইভেন্ট | তারিখ |
|---|---|
| ঘটনা (আক্রমণ ও ধর্ষণচেষ্টা) | ৫ আগস্ট |
| মামলা দায়ের | ৯ আগস্ট |
| হুমকির ফোন (অভিযোগ) | ১১ আগস্ট |
স্থানীয়রা দাবি করছেন যে অভিযুক্ত রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তারা দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস পাচ্ছেন না। পরিবারের নিরাপত্তা ও ভিকটিম সুরক্ষার জন্য এলাকাবাসী ও সমাজকর্মীদের সর্তক অবস্থান দরকার বলে মন্তব্য করেছেন কিছু স্থানীয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে আইনজ্ঞ ও সমাজকেন্দ্রিক নাগরিকরা মনে করছেন। মামলার তদন্তে যে কোনো পূর্ব-ধাতব প্রমাণ সংগ্রহ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য সংগ্রহ অনিবার্য হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
WE NEWS এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে যোগাযোগ করে তাদের বক্তব্য প্রাপ্তির চেষ্টা করছে। মামলা ও তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে আপডেট দিয়ে বলা হবে।