রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ৯৮,৭১০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (রিট) জন্য আবেদন জমা পড়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনের কারণ ও বিষয়ভিত্তিক প্রবণতা
ইফফাত জেরীন বলেন, কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। তিনি জানান, আবেদনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পড়েছে ইংরেজি এবং পরে রয়েছে গণিত বিষয়ে। চূড়ান্ত সংখ্যাটি বোর্ডে বিষয় কোড অনুযায়ী বিভক্ত হওয়ার কারণে ঠিক কতখানি প্রতিটি বিষয়ের তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
"কান্দ্ষিত ফল না পেয়ে শিক্ষার্থীরা খাতাগুলো পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন," বলেন পরীক্ষানিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন।
ফল বিশ্লেষণ: গত সাত বছরে সবচেয়ে খর্ব পাশের হার
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বরাত দিয়ে দেখা যায়, চলতি বছর বোর্ডের আওতাধীন আট জেলার মোট ১,৭৬,০৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১,১২,০৮৬ জন পাস করেছেন, যা পাশের হার ৬৩.৬৭%। একই সময়ে ১৬,১১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত সাত বছরের মধ্যে এবারের ফল সবচেয়ে খারাপ। উদাহরণ হিসেবে ২০২০ সালে পাশের হার ছিল ৯০.৩৭%। ২০২৬ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩.৬৭%, অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে পাশের হার কমেছে ২৬.৭০ শতাংশ পয়েন্ট।
কোন প্রক্রিয়ায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণ হয় এবং সময়সীমা
এসএসসি ফল প্রকাশের পরে শিক্ষার্থীরা ভোকেশনাল বা পাবলিক বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারে। রাজশাহী বোর্ড জানিয়েছে, ফল প্রকাশের দিন ছিল ১০ আগস্ট সকাল ১০টা এবং পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৯৮,৭১০টি খাতার জন্য আবেদন জমা পড়েছে।
- ফল প্রকাশ: ১০ আগস্ট (রাজশাহী বোর্ড)
- পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শেষে: ১৭ আগস্ট
- মোট আবেদন: ৯৮,৭১০ খাতা
অপেক্ষা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, খাতাগুলো বিষয় কোড অনুযায়ী অনলাইনে বা নির্ধারিত লিংক/প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। এখন এগুলো পুনর্নিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত প্যানেলে পাঠানো হবে—প্রতিটি খাতা কোথায় এবং কবে পুনর্নিরীক্ষণ হবে সে বিষয়ে বোর্ডের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশিত হবে। এমন অনেক ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়ন শেষে নম্বর বাড়তে বা কমতেও পারে; ফলস্বরূপ প্রাপ্ত ফল চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
রাজশাহী বোর্ড আওতাধীন জেলার পরিবারের সংখ্যা, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বিষয়ক পরিকল্পনা ও বিশ্ববিদ্যালয় বা যেকোনো ভোকেশনাল ভর্তি পরীক্ষায় ফলের গুরুত্ব বিবেচনায় এই বড় সংখ্যক রিট আবেদন প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার্থীরা ফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকায় শিক্ষাগত পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিলম্ব হতে পারে।
| বিবরণ | সংখ্যা / হার |
|---|---|
| মোট পরীক্ষার্থী (আট জেলা) | ১,৭৬,০৪৪ |
| মোট পাস | ১,১২,০৮৬ |
| পাশের হার (২০২৬) | ৬৩.৬৭% |
| পাশের হার (২০২০) | ৯০.৩৭% |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ১৬,১১৩ |
| রিট আবেদনের সংখ্যা | ৯৮,৭১০ |
শিক্ষাব্যবস্থা ও মানগত প্রশ্ন
ফল বিশ্লেষণে দেখা এই পতন শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকেতই তুলে ধরে—শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি, পাঠ্যবস্তুর প্রয়োগ, পৰীক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োগ ও মান যাচাইসহ বহু বিষয় আলোচিত হবে। তবে বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা কঠিন।
রাজশাহী বোর্ড পরীক্ষানিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরীন জানিয়েছে, আবেদনগুলো অধ্যায়ন করে যথাযথ প্রক্রিয়া মোতাবেক পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। পুনর্মূল্যায়নের চূড়ান্ত ফল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণ্য হবে এবং তা প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরা পুনর্নিরীক্ষণের ফল সম্পর্কে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক নোটিশ এবং জেলা শিক্ষা অফিসের বিজ্ঞপ্তি খেয়াল রাখবেন। বোর্ডের নির্ধারিত সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন জমা দিলে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে।