ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) প্রাক্তন অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর আবদুল বাকেরের ভাড়া বাসা থেকে সরকারি ত্রাণের বিশাল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অবৈধ মজুত হওয়া ত্রাণ ও অভিযান
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র জানান, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফুলগাজী বাজার এলাকার দক্ষিণ শ্রীপুরের এক ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মোট ১০ বস্তা ত্রাণ ও ৩ বস্তা শুকনা খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালে রয়েছে চাল, তেল, লবণ, চিনি, ডাল ও বিভিন্ন মসলা।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউসার হামিদ উদ্ধারকৃত মালামালের সূত্র ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলেন, “স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো ২০২৪-২৫ সালের বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল।”
জব্দ মালামালের পরিমাণ ও ধরন
অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে উদ্ধারকৃত মালামালের বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| জিনিস | পরিমাণ |
|---|---|
| চাল | ৩০০ কেজি |
| সয়াবিন তেল | ৩২ লিটার |
| লবণ | ৩০ কেজি |
| চিনি | ৩০ কেজি |
| মসুর ডাল | ৩৩ কেজি |
| হলুদের গুঁড়া (প্রতি প্যাকেট ২০০ গ্রাম) | ৩০ প্যাকেট |
| মরিচের গুঁড়া (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) | ৩২ প্যাকেট |
| ধনিয়া গুঁড়া (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) | ৩১ প্যাকেট |
কী বলা হয়েছে প্রশাসনের কাছে
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত মালামালগুলো বর্তমানে ফুলগাজী থানার হেফাজতে আছে। তিনি বলেন, উপর্যুক্ত বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, জব্দ করা পণ্যগুলো থানায় নেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র কিংবা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—সরকারি তদারকি ছাড়াই কিভাবে এত পরিমাণ ত্রাণ একটি কর্মকর্তা বা তার পরিবারের ভাড়া বাসায় পৌঁছালো। একাংশ স্থানীয়ই মনে করছেন, এসব পণ্য প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে না পৌঁছিয়ে অন্যত্র ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- ত্রাণের প্যাকেটগুলোতে উল্লেখ ছিল যে এগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দ।
- আবদুল বাকের ওই সময় ফুলগাজীতে কর্মরত থাকলেও পরবর্তীতে বদলি হয়ে নোয়াখালীর এক উপজেলার কাজে গেছেন—তবু পরিবার ফুলগাজীর বাসাতেই থাকত।
- উপজেলা প্রশাসন ও থানা মিলিয়ে ঘটনার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
পরবর্তী ব্যবস্থা ও প্রতিরোধের জরুরি দিক
সরকারি ত্রাণের সঠিক বণ্টন ও তদারকির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ত্রাণসংক্রান্ত কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিতরণ লগ, স্টক রেকর্ড ও স্থানীয় পর্যায়ে তৃতীয় পক্ষের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি—নাহলে দুর্নীতি ও অপব্যবহার চলতেই থাকবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
আব্দুল বাকের বর্তমানে ফুলগাজীতে চাকরি করতেন বলে রেকর্ডে থাকলেও বদলির পর তিনি সান্দ্বীপে কর্মরত রয়েছেন; তবে বাসা পরিবর্তন না করায় ওই ভাড়া বাসাতেই এই মালামাল পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার মৌখিক তথ্য-উপাত্ত ও প্রশাসনের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে রিপোর্ট করা হয়েছে। তদন্তের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হলে ঘটনার পূর্ণ চিত্রটি সমীচীনভাবে প্রকাশ করা হবে।
নিউজরুম, ফেনী থেকে