ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম-এর যোগদানকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কলেজের শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে যোগদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি করেন।
ঘটনার বর্ণনা ও অবস্থান
অধ্যক্ষের অফিসে যোগদানের সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাকীম কবিরের নেতৃত্বে সাত-আটজন। উপস্থিত কয়েক শিক্ষকের সঙ্গে তাদের মধ্যে বাক বিতণ্ডা হয়। কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌঁছায়। দুপুর পৌনে 12টার দিকে সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দিলরুবা জেবা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ
প্রতিবাদকারীরা অধ্যক্ষকে 'আওয়ামী লীগের সমর্থক' এবং 'স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সক্রিয় সদস্য' আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে তাকে রাজনৈতিক যোগসূত্রের কারণে নিয়োগ দিয়ে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগের পক্ষে একটি তালিকাও প্রকাশ করেন এবং কার্যালয়ের সামনে ব্যানারে লিখে রাখেন:
“ফ্যাসিবাদের দোসর, স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য”
ছাত্রদলের নেতা মুস্তাকীম কবির বলেন, "ফ্যাসিবাদের পতনের দুই বছর পরও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একজনকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাই এবং ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে।"
অধ্যক্ষের বক্তব্য
নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁর যোগদান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন ও যোগদানের সময়সীমা
সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেলা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, ১৬ আগস্টের মধ্যে, নতুন পদে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেডিকেল কলেজে এই ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগ ও গৃহীত সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কলেজের প্রশাসনিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষক ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠে; যদিও যোগদান অনুষ্ঠান শেষে অধ্যক্ষকে শিক্ষক-কর্মচারী ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
- ঘটনার সময়: মঙ্গলবার দুপুর, পৌনে 12টা নাগাদ
- প্রধান ব্যক্তিরা: অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম (নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ), মুস্তাকীম কবির (ছাত্রদল), অধ্যাপক ডা. দিলরুবা জেবা (সাবেক অধ্যক্ষ)
- প্রাথমিক দাবি: অধ্যক্ষ নিয়োগ বাতিল এবং পুনর্বাসন বন্ধ করা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১০ আগস্ট | সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে অধ্যক্ষের নিয়োগ ঘোষণা |
| ১১ আগস্ট | নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ কলেজে যোগদান; ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও ব্যানার প্রদর্শন |
কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা
এ ধরনের বিরোধ ও প্রটেস্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজকর্ম ব্যাহত করতে পারে। কলেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে—বিশেষত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকিতে না পড়ে সে দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত নিয়োগ ও সময়সীমা স্পষ্ট থাকায় কলেজ প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ পরিচালনা করা। এলাকাবাসী ও কলেজ কমিউনিটির সঙ্গে সংলাপ ছাড়া রাজনৈতিক আরোপ-প্রতারণার ভিত্তিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা উচিত হবে কি না—তারই সুচিন্তিত সমাধান দরকার।
এই পরিস্থিতিতে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষরা যে কোনো গণমানসিক উত্তেজনা এড়িয়ে সংলাপের পথ খুঁজে নিতে পারলে প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে তা সঠিক হবে। কোতোয়ালি থানা ও প্রশাসনও পরিস্থিতি শান্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।
বিপ্লব সরকার, ফরিদপুর প্রতিনিধি
WE NEWS