জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ে গত মঙ্গলবার ও বুধবার ওষ্ঠা—ক্লাস চলাকালে একের পর এক মোট ২৯ জন ছাত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী জানান, অসুস্থদের মধ্যে ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পরে তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার ক্রম ও প্রাথমিক চিকিৎসা
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় মঙ্গলবার দশম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালে হঠাৎ মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে তাদের অভিভাবকরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার মাত্র একদিন পর বুধবার আবারও বিদ্যালয়ের পাঠদানকালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির আরও ২২ জন শিক্ষার্থী একইভাবে অসুস্থ হন।
শিক্ষার্থীরা জানান শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বমিবমি ভাব ছিল। বিদ্যালয় ও উপস্থিত অভিভাবকরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, সেখানে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে চিকিৎসা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তিনজনকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাথমিক নির্ণয়
“অসুস্থ ২২ জন শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে... এটিও ম্যাস সাইকোজেনিক সমস্যা বলে মনে হয়েছে।”
এই কথা জানিয়েছেন পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল। তিনি জানান, বর্তমানে আটজন শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বাকি রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংখ্যাগুলি এক নজরে
| ঘটনার দিন | অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা |
|---|---|
| সোমবার/মঙ্গলবার (প্রথম দফা) | ৭ |
| বুধবার (দ্বিতীয় দফা) | ২২ |
| মোট | ২৯ |
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি প্রদর্শন করলে দ্রুত তাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। তিনি জানান, দুই দিন ধরে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ চলছে।
সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিরোধ
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনার পেছনে ম্যাস সাইকোজেনিক ঘটনা থাকতে পারে, অর্থাৎ সামাজিকভাবে ছড়ানো মানসিক-মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত তার বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রয়োজন।
- পারস্পরিক আতঙ্ক তৎক্ষণাৎ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে স্কুলে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
- প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন।
- প্রয়োজনে মনোস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করে তদন্ত করা উচিত।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও পরবর্তী ধাপ
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যেই অসুস্থদের চিকিৎসা দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর আহ্বান রয়েছে।
হঠাৎ অসুস্থতা এমন সময়ে ঘটায় স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগ ও শিক্ষা বিভাগের kombiniert উদ্যোগ হলে দ্রুত ঘটনার কারণ নির্ণয় করে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীদের সঠিক পরীক্ষার ফলাফল বা পরিবেশগত কোনো দুষণের উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি; তাই তদন্ত শেষে প্রকাশিত অফিসিয়াল উপাত্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিশ্লেষণ দেওয়া হবে।