জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের গতন শহর গ্রামে এক দরিদ্র কৃষকের ফলন্ত কলাবাগান রাতের মধ্যে কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তার দেড় বিঘা জমিতে রোপণ করা প্রায় ৭০০টি কলাগাছ এক রাতেই মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর অধিকাংশেই তখন থোড় ও কাঁচা কলা ধরেছিল।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও আর্থিক ক্ষতি
কৃষক নূর মোহাম্মদের কথায়, বাগানটি গড়ে তুলতে তিনি বিভিন্ন এনজিও ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময়ের শ্রম ও পরিচর্যার পর ফলন শুরু হওয়ায় তিনি ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি কিছু লাভের প্রত্যাশা করেছিলেন। ঘটনার পর তার ধারণা, একটি রাতে সব গাছ কেটে ফেলার ফলে তার মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন অসচ্ছল কৃষক বহু কষ্টে যেটা তৈরি করেছেন সেটি এভাবে ধ্বংস করা নিন্দনীয়। তারা ঘটিতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সংক্রান্ত পদক্ষেপ
ঘটনা ঘটে বুধবার সকালে এলাকার লোকজন বাগান দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায়। একই দিন বিকেলে নূর মোহাম্মদ জয়পুরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
কৃষকের বর্ণনা
“দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও অনেক আশা নিয়ে বাগানটি করেছিলাম। অধিকাংশ গাছেই থোড় এসেছিল, কাঁচা কলাও ঝুলছিল... কিন্তু এক রাতেই দুর্বৃত্তরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে।”
এই উদ্ধৃতিতে কৃষকের হতাশা ও মানসিক কষ্ট স্পষ্ট। তিনি বলেন, গত বছর ওই বাগান থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল; তাই এবারের ফলন থেকে আরও বেশি উপার্জনের প্রত্যাশা ছিল। এখন ঋণের টাকার একইসাথে পরিশোধ ও পরিবারের জ্ঞানীয় থাকা নিয়ে উদ্বেগ জেগে আছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও আশা
পাড়া-প্রতিবেশী ও গ্রামের লোকজন সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, একটি দরিদ্র পরিবারকে এভাবে পেষণ করা ভুল। তারা প্রশাসনের দ্রুত সাড়া ও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
- ক্ষতিগ্রস্ত জমি: প্রায় ১.৫ বিঘা (প্রধানত কলাবাগান)
- কাটা গাছের সংখ্যা: প্রায় ৭০০টি
- আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি: প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
- ঋণ: প্রায় ৫০ হাজার টাকা (এনজিও ও অন্যান্য উৎস থেকে)
আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন
এই ধরনের ভাঙ্গন ও নষ্টকরণ কেবল এক ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতি নয়; এটি গ্রামের সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষিজীবী আস্থার ওপরও আঘাত। বিশেষত তখন যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণমুক্তির প্রত্যাশায় ফলন সংগ্রহের পর্যায়ে পৌঁছেছেন। কৃ্ষিবিষয়ক প্রায়শই ক্ষুদ্র ও সীমিত সম্পদের মালিকেরা এমন আঘাতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েন—তারা পুনরায় উদ্যোগ নিতে স্বল্পসাহসী হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা চাইছেন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতি স্পষ্টভাবে নিরূপণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করা হোক। পুলিশ জানিয়েছে তারা সিসিটিভি, গুপ্ততথ্য ও স্থানীয়দের বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত চালাবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ক্ষতিগ্রস্ত জমি | প্রায় ১.৫ বিঘা |
| গাছের সংখ্যা | প্রায় ৭০০টি কলাগাছ |
| ঋণ | প্রায় ৫০,০০০ টাকা |
| প্রতিবেদন করা থানা | জয়পুরহাট সদর থানা |
একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকেই অনেকের জীবিকা নির্ভর করে—এমন ক্ষতি পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নীতিগত পদক্ষেপ, দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবিই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সুস্থ ফিরতি নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।