পাঁচবিবি উপজেলার কয়া সীমান্ত এলাকায় সীমান্তরক্ষার পাশাপাশি জনসেবামূলক কাজের একটি উদাহরণ স্থাপন করলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সীমান্তবর্তী এলাকার ৫০০ জনেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেয়া হয়েছে।
আয়োজন ও নেতৃত্ব
ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. ফয়সাল হাসান খান। স্থানীয়ভাবে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করেন জয়পুরহাট-২০ ব্যাটালিয়ন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, সহকারী পরিচালক মোঃ হুমায়ুন করিম ও অন্যান্য বিজিবি কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধি।
কর্মসূচির পরিধি ও সেবা
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ অসুখে আক্রান্ত, শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বয়স্কদের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন দিনমজুর, কৃষক, বৃদ্ধ ও নারীরা, যারা আগে চিকিৎসাসেবায় প্রায়ই বঞ্চিত থাকতেন।
- তারিখ ও সময়: সোমবার, সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী
- স্থান: কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, পাঁচবিবি
- অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা: প্রায় ৫০০+ স্থানীয় মানুষ
- সেবার ধরন: সাধারণ চিকিৎসা পরীক্ষা, নারীর স্বাস্থ্য পরামর্শ, শিশুস্বাস্থ্য, বার্ধক্যজনিত জটিলতার প্রাথমিক পরামর্শ ও ওষুধ বিতরণ
লোকাল প্রভাব
সীমান্তবর্তী এই এলাকায় চিকিৎসা সুবিধা অনেক সীমিত। হাসপাতালে গেলেও যাতায়াত খরচ ও সময়জনিত সমস্যা বহু পরিবারকে সরকারি বা বেসরকারি সেবা থেকে দূরে রাখে। এ ধরনের ক্যাম্প স্থানীয় মানুষের জন্য সরাসরি উপকার করে—তাদের চিকিৎসা খরচ কমে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসে। উপস্থিত অনেক পরিবারই বলেন, এখনই সময় করে এখানে এসে পরীক্ষা করাতে পেরে তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
বিজিবির বক্তব্য
“সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের মানবিক সহায়তায় বিজিবি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে”
এ মন্তব্য করেন দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. ফয়সাল হাসান খান ক্যাম্প উদ্ঘাটনকালে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও এলাকার জনগণের কল্যাণ—উভয়ই বিজিবির দায়িত্বের অংশ এবং এই ধরনের উদ্যোগ তা নিশ্চিত করার একটি উপায়।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ দিশা
স্থানীয়রা যেমন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, তেমনি তারা 지속িকরণেরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ মেয়াদে প্রয়োজন হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর নিকটবর্তীতা বাড়ানো, নিয়মিত মোবাইল মেডিকেল সেবা ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির মতো পদক্ষেপ। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে—তবে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্র
| আইটেম | তথ্য |
|---|---|
| আয়োজক | জয়পুরহাট-২০ ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ |
| উদ্বোধক | কর্নেল মো. ফয়সাল হাসান খান, দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার |
| অবস্থান | কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, পাঁচবিবি |
| লক্ষ্য গোষ্ঠী | সীমান্তবর্তী দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণ |
এ দিনের ক্যাম্প স্থানীয় মানুষদের জন্য একটি তাত্ক্ষণিক শুশ্রূষার প্রস্তাব হিসেবে কাজ করেছে। তবে স্বাস্থ্যসেবার টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন—এমন অনুরোধ স্থানীয় সুখ্যাতরা করেছেন।
জয়পুরহাট থেকে নিউজকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করেন; আয়োজকদের বক্তব্য ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে সংরক্ষিত আছে।