চিনিকলের লাভজনকতা ও আখজোগান—কেন জরুরি
জয়পুরহাটে সোমবার বিকেলে জয়পুরহাট চিনিকল মিলনায়তনে আখচাষ বৃদ্ধি, চিনিকলকে লাভজনক করা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করেছিল জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কর্মচারী-নেতৃবৃন্দ ও চিনিকলের অন্যান্য পরিচালক ও কর্মকর্তা।
আলোচ্য সূচি ও প্রস্তাবিত প্রশস্তিকরণ
সভায় বক্তারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন এবং কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন। বিশেষত আলোচ্য ছিল—
- আখচাষ বাড়িয়ে পর্যাপ্ত আখজোগান নিশ্চিত করা যাতে মিল সঠিক ক্ষমতায় চালু থাকে,
- চিনিকলকে লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও ব্যয়সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণ,
- শ্রমিক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্র্যাচুইটি ফান্ড প্রবর্তনের দিকগুলো প্রস্তুত করা,
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আখের ফলন ও বিশুদ্ধতা বাড়ানো এবং চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া,
- চাষিদের যে কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও সরাসরি সমর্থন ব্যবস্থা তৈরি করা।
উপস্থিতি ও সংগঠনের ভূমিকা
সভায় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) ইশতিয়াক হোসেন রাজীব, চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আলী আকতার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বাবুল করিম, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা শিপলু ও ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মো. জায়েদ হোসেন।
| নাম | পদবী/সংগঠন |
|---|---|
| মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা | ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়পুরহাট চিনিকল |
| গোলজার হোসেন | জেলা বিএনপি আহ্বায়ক (প্রধান অতিথি) |
| ইশতিয়াক হোসেন রাজীব | মহাব্যবস্থাপক (অর্থ), জয়পুরহাট চিনিকল |
| আলী আকতার | চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি |
আর্থ-সামাজিক প্রভাব ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
বক্তারা মনে করান যে, জয়পুরহাট চিনিকল একটি ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। তাই চিনিকল সচল থাকলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে শতশত পরিবার উপকৃত হয়। তবে চিনিকলকে লাভজনক রাখার জন্য বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা, আখজোগান নিশ্চিতকরণ ও শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তৎপর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আখজোগান বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা ও উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ ছাড়া ভবিষ্যৎ ঝুঁকি থাকবে। একই সঙ্গে গ্র্যাচুইটি ফান্ড বাস্তবায়ন করলে বিশেষত অবসরে যাওয়া কর্মী বা অসুস্থ অবস্থায় শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা যাবে—এটি মিলের কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াবে।
পরবর্তী ধাপ ও প্রত্যাশা
বক্তারা মিল কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আগামী মৌসুমের জন্য আখচাষ বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সার ও বীজ সরবরাহ এবং বাজারভিত্তিক মূলধনী সহায়তার বিষয়গুলো দ্রুত গতিতে পরিকল্পনা করা হবে বলে সভায় প্রতিপাদিত হয়েছে।
জয়পুরহাট চিনিকল ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সমন্বয় সঠিকভাবে স্থাপন করা গেলে—চিনিকলের কার্যক্রম সচল থাকবে, আঞ্চলিক কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।