সকাল থেকেই মানুষের ভিড়। কারো হাতে ভরসার লাঠি, কারো কোলে অসুস্থ সন্তান—অমুক-অমুক দেখা নেই, তবে প্রত্যেকের চোখে একই অনুরোধ: চিকিৎসা পেতে চাই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের আয়োজনে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
কেউ বড় হাসপাতালে যেতে পারেন না, কেউ সামনেরই স্বাস্থ্যসেবায় ভর করে
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পে সীমান্তরক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনাজপুর সেক্টরের সমর্থনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রচুর রোগীকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী মানসম্মত ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকেই বড় শহরের ক্লিনিকে যাওয়ার খরচ বা সময় জুটাতে পারে না। তাই এমন ক্যাম্প তাদের কাছে বড় সহায়তা। কয়া গ্রামের বাসিন্দা আনসার আলী জানান, “আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষ। শরীরে তো কিছু না কিছু রোগ লেগেই থাকে। সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না। আজ বাড়ির কাছেই ডাক্তার বসেছে।”
“বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান উপস্থিত থেকে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন,”
কী সেবা পেয়েছেন মানুষরা
বিজিবি বলছে, ক্যাম্পে মোট ৫০০-এরও বেশি সীমান্তবর্তী মানুষ—নারী, পুরুষ ও শিশু—চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছেন। অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে ধ্যান-নির্ঘাত থাকলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। কিছু মানুষ ক্যান্ডিডেটের মতো সাধারণ শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ব্যথা, দুর্বলতা ও শিশুরা খাবারের অনিহার নিয়ে এসেছে। একজন সাতকুড়ি বয়সী বৃদ্ধ হেবাতুল্লাহ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “বড় ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ কেনার টাকা জোটানো আমাদের মতো গরিবের পক্ষে সম্ভব হয় না। বিজিবির ডাক্তাররা ভালো করে দেখে ফ্রিতে ওষুধ দিলেন।”
এছাড়া মা-বাবারা দুই বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে এসে শিশুর খাদ্যাভ্যাস ও তেমন গঠনগত সমস্যার পরামর্শ নিয়েছেন। দিনমজুর সুমন রানা বললেন, “এখানে এসে ডাক্তার দেখালাম। পরামর্শ দিলো এবং ওষুধ দিলো। জেলা শহরে গেলে খরচ হতো, অসুবিধা হতো। তাই খুবই সহায়ক।”
আয়োজক বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সব সময় সীমান্তবর্তী জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্যোগ ও সংকট সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডারের বক্তব্যে বলা হয় যে ভবিষ্যতেও এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
- আয়োজক: ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, জয়পুরহাট
- সমর্থন: দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তর
- অবস্থান: কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, পাঁচবিবি উপজেলা
- উপকারভোগী: প্রায় ৫০০+ সীমান্তপারি নারী, পুরুষ ও শিশু
| আইটেম | বিস্তারিত |
|---|---|
| তারিখ | ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) |
| স্থান | কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ |
| উপকারভোগী | প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তি |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
ক্যাাম্পে যে সেবা প্রদান করা হয়েছে তা স্থানীয়দের মধ্যে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ব্যতিক্রমী না। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে স্বল্প আয় ও চোখে পড়ার মতো স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার অভাবে ছোটখাটো অসুস্থতাও বড়জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিনামূল্যে ওষুধ ও ডাক্তারি পরামর্শ দূরবর্তী এলাকায় বসবাসরত শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের আরও ক্যাম্প আয়োজন করলে স্বাস্থ্যসেবা সরাসরি পৌঁছে যাবে এবং প্রাথমিক স্তরে চিকিৎসা গ্রহণে অনেকে উৎসাহ পাবেন। তবে এই ধরনের উদ্যোগকে টেকসই করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাবও তুলেছেন অনেকে।
ফ্যাশনে-নিয়মে সীমান্ত রক্ষার কাজের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করলে এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও বিশ্বাস বাড়ে—এটাই এই ধরনের কর্মসূচির লক্ষ্য।