জয়পুরহাটে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে চলা বিরোধের জেরে আপন তিন ভাইয়ের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে মারা গেছেন স্থানীয় বাসিন্দা বিলকিস বানু (বয়স ৫৫)। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত খয়বর আলীর মেয়ে।
ঘটনার পর থেকে চিকিৎসা—সুস্থতার আশঙ্কা থেকে মৃত্যু
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃতের পিতা জীবিত থাকাকালে তার কন্যাকে ৩৯ শতক জমি দান করেন। ওই জমিতেই বিলকিস চাষাবাদ করতেন। জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ ও গালাগাল চলে আসছিল।
শুক্রবার নয়—স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে, গত ৩১ আগস্ট সকালবেলায় বিলকিস নিজ জমিতে গেলে আপন তিন ভাই—রুহুল আমিন, কোরবান আলী ও জয়নাল আবেদীন—গিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বাধে। অভিযোগ সূত্রে বলা হয়, এক পর্যায়ে এক ভাই কোদাল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে মাথার খুলি ফেটে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই সময় অন্য দুই ভাইও তাকে আঘাত করেন।
আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিলকিসকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় (আইসিইউ) টানা সাত দিন থাকার পর সোমবার সকালেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
আইনি ব্যবস্থা ও মামলা
ঘটনার পরপরই নিহতের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ১ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন; মামলায় তিন ভ্রাতা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নাম আছে। বিলকিসের মৃত্যুর পরে পুলিশ ওই মামলায় হত্যার ধারাও যুক্ত করেছে।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, “নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তিনজনই পলাতক, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৩১ আগস্ট | বিলকিস নিজের জমিতে গিয়েছিলেন; ভ্রাতাদের সঙ্গে তর্কে কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয়; তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। |
| ১ সেপ্টেম্বর | নিহতির ছেলে বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। |
| ৭ সেপ্টেম্বর | বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বিলকিস মারা যান; ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। |
স্থানীয় প্রভাব ও বিষয়টির গুরুত্ব
পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উদ্ভুত অভ্যন্তরীণ বিবাদ গ্রামীণ সমাজে বিরল নয়; কিন্তু পরিবারেরই সদস্য হয়ে সহস্রাংশে রক্তপাত ঘটানো ও হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনা স্থানীয় স্থিতিশীলতা ও নারী সুরক্ষা প্রশ্নে নতুন উদ্বেগ তুলেছে। একজন বৃদ্ধা নারী চরমভাবে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে আত্মীয়তার আড়ালে লুকানো সম্পত্তি-বৈরিতা কেবল ব্যক্তিগত সীমায় থেকে যায় না—দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামে সামাজিক সম্পর্ক ও প্রতিবেশী নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পাঠকের জন্য সংক্ষিপ্ত তথ্য ও পরামর্শ
- বৈরিতা হলে দ্রুত ক্ষমতাসীন থানায় লিখিত অভিযোগ করা ও বৈধ পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- প্রাপ্তি ও দান সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক রাখলে সম্পত্তি-বিবাদে আইনি রক্ষাকবচ পাওয়া সহজ হয়।
- গৃহস্ত কলহ দ্রুত পারিবারিক সংগঠন বা মধ্যস্থকার মাধ্যমে সমাধান না হলে মামলা বা মধ্যস্থতা করতে আদালতের সাহায্য নেওয়া উচিত।
জয়পুরহাট সদর থানার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনাটিকে নজরদারি করে রাখছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোরদার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্ত আরও গভীর করা হবে।
চম্পক কুমার/এসএইচএ — প্রতিবেদক: জয়পুরহাট