পটুয়াখালীতে দ্য ডেইলি স্টারের নিজস্ব জেলা সংবাদদাতা ও স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পরিচিত মুখ মো. সোহরাব হোসেন আজ সন্ধ্যা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
পরিবার এবং সহকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সকালে তিনি আউলিয়াপুরে নিজ বাড়ি থেকে সদর অভিমুখে যাওয়ার সময় সকাল সাড়ে ৮টা-র দিকে মোল্লাবাড়ি স্ট্যান্ডের কাছে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সকাল ৯টা ৫০ মিনিট-এ ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের পরিচর্যা চলাকালীন বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রাখার পর শেষ বিকালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন; হাসপাতাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর সময় বলা হয়েছে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট।
পেশাগত জীবন ও অবদান
সোহরাব হোসেন দীর্ঘকাল ধরে পটুয়াখালী ও উপকূলীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারে যোগদান করেন এবং প্রায় ২২ বছর ধরে পটুয়াখালী অঞ্চল থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। তাঁর প্রতিবেদনে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশগত ঝুঁকি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম—এইসব বিষয় প্রবলভাবে উঠে এসেছে।
- সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও সরকারি কাজে অনুপযুক্ত ব্যয় নিয়ে তিনি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছেন।
- পটুয়াখালী ইপিজেডের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ডলফিনের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা, জেলেদের দুর্দশা ও উপকূলীয় ভাঙন নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়েছেন।
এই কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৩-এ দ্য ডেইলি স্টারের সেরা জেলা প্রতিবেদকের পুরস্কার পান। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।
সাংবাদিক সমাজে শোক ও জানাজার প্রস্তুতি
সোহরাব পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন এবং আগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদে প্রেসক্লাবের সাবেক এবং বর্তমান নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী ও স্থানীয় নেতারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের বরিশাল সংবাদদাতা জানিয়েছেন— “পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে তাঁর সহকর্মীরা রাত ১০টার দিকে মরদেহ গ্রহণ করে; সকলেই বারিধ্যানে বিরহ অনুভব করছেন।”
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টা-এ আউলিয়াপুর উপজেলার সাবিনা আক্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তাঁর জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৃত্যুকে ঘিরে পড়শি-সামাজিক ও পেশাগত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব
সোহরাবের দীর্ঘকালীন প্রতিবেদনের ফলে পটুয়াখালী অঞ্চলের অনেকে সরকারি সেবা, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশগত অবনতি সম্পর্কে জাগরুক হয়েছেন। তাঁর রিপোর্টিং স্থানীয় প্রশাসনকে সচেতন করে এবং কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার পথও প্রশস্ত করেছে। একজন অভিজ্ঞ জেলা সাংবাদিকের অকালমৃত্যু স্থানীয় সাংবাদিকতা প্রাঙ্গণ ও সম্প্রদায়ে শূন্যতার সৃষ্টি করবে—এমনটাই মনে করছেন সাংবাদিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মীরাই।
আজকের ঘটনার পর পটুয়াখালী ও বরিশালভিত্তিক বিভিন্ন সহযোগী এবং জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধিরাও শোকপ্রকাশ করেছেন। দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
আচল ঘটনা ও তাঁর প্রতিবেদনের প্রভাব বিবেচনায় পটুয়াখালীর সাংবাদিক সমাজ তাঁর অকালচলে যাওয়ায় এক ক্ষত অভিজ্ঞতা পেয়েছে। আগামীকাল জানাজা ও দাফনের পর স্থানীয় সংবাদ পরিবেশ ও সমাজে শোকের ছায়া আরও দৃশ্যমান হবে।