পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে সরকারি খাসজমির ওপর দলীয় কার্যালয় তৈরির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষ মিলিয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি
স্থানীয়রা জানায়, বাদুরা বাজারের একটি গ্যারেজের পাশে সরকারি খাসজমি বলে পরিচিত খাওয়া-খাটার জায়গায় ইউনিয়ন পর্যায়ের গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণের জন্য টিনের ঘর তৈরির কাজ শুরু করা হয়। ওই কাজটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধা। প্রকৃত নামধারী ওই জমির মালিকানা নিয়ে পাশের জমির কয়েকজন—বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, শামসু ও সোহাগ—বাধা প্রদান করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে পরিণত হয় এবং সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।
আহতদের তথ্য ও চিকিৎসা
আহতদের মধ্যে পরিচিত নামগুলো হচ্ছে—কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫)। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে; চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের ক্ষতচিহ্ন শিথিল এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
| নামী | বয়স (প্রায়) | চিকিৎসা কেন্দ্র |
|---|---|---|
| কাওসার মৃধা | ৪০ | গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| আবুবকর | ২৯ | পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল (অপারত) |
| শফিক, মনসুর, শাকিল ও অন্যান্য | ২০-৩২ | গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
প্রধান বিবরণ ও পক্ষগুলোর বক্তব্য
বাবুল হাওলাদার দাবি করেছেন, বাদুরা বাজার এলাকায় তাদের কেনা জমি রয়েছে এবং অননুমোদিতভাবে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালানো হলে তারা বাধা দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাবজেক্ট নিয়েই প্রথমে কথাবার্তা চলছিল এবং পরে ঘটনাটি হাতাহাতিতে চলে যায়।
অপরপাশে, আমখোলা ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব এমদাদ হোসেন বলেছেন যে সরকারি খাসজমিতে দলীয় কার্যালয় নির্মাণকালে বাবুল হাওলাদারের লোকজন তাদের ওপর হানাহানি করেছে এবং তাদের কর্মীদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
“সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,”
এ কথা বলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
বাদুরা বাজার মূলত এলাকায় মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যের কেন্দ্র; দফায় দফায় এমন ধরনের জমি সংক্রান্ত বিবাদ স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। নিরাপত্তারক্ষীরা বলছেন, অপরাধ ও সহিংসতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনি পথে দাবি তালিকাভুক্ত করে সমাধান চাইতে হবে।
- পুলিশ জানিয়েছে—বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং পর্যাপ্ত পুলিশ সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছে।
- যদি কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়, তখন আইনি ব্যবস্থা নেয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় ঝামেলা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।
নজরদারির প্রয়োজন
জমি-স্বত্ব নিয়ে অঞ্চলজুড়ে বিরোধ নতুন নয়; তবে সরকারি খাসজমি বা উন্মুক্ত জায়গাকে নিয়ে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের দ্বারা স্থায়ী নির্মাণ কাজ শুরু করলে তা আরও তীব্র ঝামেলার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে এবং কাউকে যেন অপ্ররোচিতভাবে নিজেদের দাবি জোরপূর্বক কার্যকর করার সুযোগ না পায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয় বাজার এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত শান্তি ফিরে না এলে বাণিজ্য ও জনজীবনে পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। বিষয়টিতে লিখিত অভিযোগ বা প্রশাসনিক অনুসন্ধান হলে পরবর্তী প্রতিবেদন নিয়ে জানানো হবে।
লেখক: সঞ্জয় মজুমদার, পটুয়াখালী জেলা থেকে রিপোর্ট।