পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার দিন অসদুপায় চিহ্নিত হওয়া এক প্রার্থীর নাম এসেছে তদন্তের শীর্ষে। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় অফিস সহায়ক (২০তম গ্রেড) পদে লিখিত পরীক্ষায় নিজের পরিবর্তে অন্যজনকে বসিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে শনিবার বিকেলে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পরীক্ষা থেকে গ্রেফতারের মুহূর্ত
আহত সূত্র ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, শুক্রবার পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের শনিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হলে পর্যালোচনার সময় কর্মকর্তারা জহিরুলের হাতে থাকা খাতার লেখার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার খাতার লেখার মধ্যে তফাৎ লক্ষ্য করেন। কর্মকর্তারা যে প্রশ্নগুলো দেন, সেগুলোর উত্তরে জহিরুল সন্তোষজনকভাবে সাড়া দিতে পারেননি; এতে তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রবল হয়।
অবশেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জহিরুল স্বীকার করেন যে পরীক্ষার লিখিত অংশে তার হয়ে অন্য একজন অংশ নিয়েছেন। ঘটনার পর পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, জেলার নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে জহিরুলকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পরীক্ষার পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট
এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি শূন্য পদের বিপরীতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৩,৯০০ জন প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষা থেকে মোট ৫৯ জন উত্তীর্ণ হন এবং তাদেরই মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল। নিম্নে পরীক্ষার মূল সংখ্যাগুলো একটি টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| দলিল | সংখ্যা |
|---|---|
| শূন্য পদ | ১০ |
| পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী (প্রায়) | ৩,৯০০ |
| লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ | ৫৯ |
প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট স্তরে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় জনজীবনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার ন্যায়নির্ভরতা ও সততার ওপর আস্থা বজায় রাখতে দ্রুত তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
“জিলা প্রশাসনের কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে,”
ওসি মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। জেলা প্রশাসন প্রশাসনিক ও আইনগত সকল দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এই কথাও তিনি বলেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য সুবর্ণ সুযোগে ধ্বংস
নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায়ের ঘটনা প্রকাশ পেলে স্থানীয় স্বাভাবিক বিশ্বাস ও প্রার্থীদের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে। যেখানে কম সংখ্যক শূন্যপদ—প্রতিযোগিতা বেশি, সেখানে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উঠলেই তা সমাজে ক্ষোভ ও সন্দেহ ঢেলে দিতে পারে। প্রশাসনিক প্রতিকার না হলে ভবিষ্যতে আরো প্রতারণার প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরবর্তী করণীয়
- পুলিশ ও জেলা প্রশাসন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মিল যাচাই করে ফলপত্র পুনঃপর্যালোচনা করা হতে পারে।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাই ও সিলভারের কড়াকড়ি বাড়ানো নিয়ে প্রশাসন আলোচনা করবে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানতে গিয়ে দেখা গেছে, আটকপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের বটকাজল এলাকার বাসিন্দা এবং আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-পত্র দায়ের করা হবে।
পটুয়াখালী থেকে রিপোর্টিং করে জানা গেছে, জেলার অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায়ও কঠোর পরিচয় যাচাই ও পর্যবেক্ষণ ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব আরোপ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অনৈতিকতা প্রতিহত করা যায়।
পটুয়াখালী — সংবাদদাতা, WE NEWS