পটুয়াখালীর পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া গ্রামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ওই ইউনিয়নের স্থানীয় এক গণ্যমান্য নেতা-উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাত সাড়ে ন'টার দিকে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এলাকাবাসী তাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে।
ঘটনার পরিসর
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি হলেন একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বারেক। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই তরুণীকে নানা রকমভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল সোমবার রাত সাড়ে ৯টা-র দিকে। পরিবার সদস্যরা বাড়ির পেছনের বাথরুমের কাছে সন্দেহজনক শব্দ শুনে টর্চের আলো দিলে তাকে সেখানে দেখতে পান। পালানোর সময় পাশের টিনের বেড়া ও একটি গর্তে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে ধরে রাখেন এবং একপর্যায়ে পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।
পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্য
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন—
“পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মামলার পর তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা মামলা করেছেন এবং ঘটনার ন্যায় বিচারের দাবি করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ এমন আচরণ করে, তাহলে আইনের আওতায় আনতে হবে—এরই প্রতিফলন ঘটনার সময় জনমানুষের তৎপরতায় দেখা যায়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য পুলিশি তৎপরতা ও প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত বিচারের দাবি তাদের। কিছু অধ্যুষিত এলাকায় নারী–মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি দু’পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার কথা তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
- অভিযোগের ধরন: মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করা
- গ্রেপ্তারের সময়: রাতে—সাড়ে ৯টার দিকে
- গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়: ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বারেক
- প্রাথমিক ব্যবস্থা: স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে হস্তান্তর; থানায় মামলা দায়ের
সম্ভাব্য আইনি কর্মপদ্ধতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারী মামলা ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত ধারায় মামলাটি পরিচালিত হবে। ঘটনার সময় স্থানীয়রা যেভাবে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে, তাতে প্রমাণ সংগ্রহ সহজ হবে বলেও অভিমত প্রকাশ করেন অনেকে। তবুও আদালত পর্যন্ত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রক্রিয়া বজায় রাখা জরুরি বলে আইনজ্ঞরা বলছেন।
| পদবী | নাম |
|---|---|
| ইউপি সদস্য (৭ নম্বর ওয়ার্ড) | বারেক |
| থানার নাম | দুমকি থানা |
| ঘটনার সময় | সোমবার রাত সাড়ে ৯টা |
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
পাঙ্গাশিয়া ও আশেপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি এমন আচরণ করে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। তারা চাইছেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো, আইনের নিয়মিত প্রয়োগ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে দুমকি থানা। মামলার পর অভিযুক্তকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি সূত্রে যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেটিই আমরা এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত যাচাই করে প্রকাশ করেছি।
এ ঘটনায় এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি, তবে সাধারণ মানুষের মাঝে বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আহ্বান শুনেছে এই সংবাদদাতা।
রিপোর্ট: সঞ্জয় মজুমদার, পটুয়াখালী থেকে