অপরাধ পটুয়াখালী পটুয়াখালী (38)

রাঙ্গাবালীতে নামজারি ঘুষের ভিডিও: পটুয়াখালী তহশিলদারকে প্রশাসনিক স্থগিততা

রাঙ্গাবালী উপজেলার এক তহশিলদারের বিরুদ্ধে জমি নামজারির জন্য সরকারি ফি বহুগুণ ধার্য করে হাজার হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভিডিওসহ প্রমাণ সামনে এসেছে। তদন্তের পরে সেই কর্মকর্তা প্রশাসনিকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে।

রাঙ্গাবালীতে নামজারি ঘুষের ভিডিও: পটুয়াখালী তহশিলদারকে প্রশাসনিক স্থগিততা
©অলংকরণ সঞ্জয় মজুমদার / we-news.com

রাঙ্গাবালী উপজেলার ভূমি সেবা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ওঠা অভিযোগ ও ভিডিওদলিল পর্যালোচনায় স্থানীয়রা বলছেন, সহজে সরকারি সেবা পাওয়াই আজ দুরূহ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ ও প্রমাণ উদ্ধৃত করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে একাধিক ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ন্যূনতম ফি নির্ধারিত থাকলেও তহশিলদার পড়ে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা দাবি করেছেন।

অভিযোগ ও প্রথমিক তথ্য

ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, একটি জমির নামজারির সরকারি আনুমানিক ফি মাত্র ১,১৭০ টাকা হলেও রাঙ্গাবালী ইউপির তহশিলদার আবদুস সোবাহান তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা দাবী করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দুই একর ৪২ শতাংশ জমির জন্য চারটি দলিল নথির পরিবর্তে দুইটি দলিলের নামজারি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। দরকষাকষির ফলে চূড়ান্তভাবে তারা ২০,০০০ টাকা দিতে বাধ্য হন; অগ্রিম হিসেবে ১০,০০০ টাকা দেওয়া থাকে।

ভিডিও প্রমাণ ও অভিযুক্তের পালাবদল

ঘুষ নেওয়ার মুহূর্তের একাধিক ভিডিও দলিল যুগান্তর সংবাদপত্রের হাতে উঠে এসেছে—এগুলিতে অফিসিয়াল কাগজপত্র ও নগদ লেনদেনের দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান। অভিযুক্ত তহশিলদার নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, নামজারি ও দাখিলার জন্য তিনি মোট ২,৬৭০ টাকা নিয়েছেন এবং বাকি অনাস্থার কারণটি পারিবারিক লেনদেন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

“আমি কোনো অবৈধ টাকা গ্রহন করি নি, যা নেওয়া হয়েছে তা রেকর্ডভিত্তিক কাজের খরচ হিসেবে হয়েছে”—আবদুস সোবাহান

জানানো হয়েছে, মার্চে রাঙ্গাবালীতে যোগদানের পর থেকে তাকে কোনো কার্যকরি দায়িত্বে রাখা হয়নি এবং তার প্রশাসনিক আইডিও বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান জানান, অভিযোগ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরোনো অভিযোগ ও বড় অঙ্কের প্রতারণার প্রশ্ন

এই অভিযোগ নতুন নয়। প্রতিশোধী অভিযোগে স্থানীয়রা তুলে ধরেছেন আরেকটি কাণ্ড—মৌকরণে বিএস রেকর্ড সংশোধনের নামে সোবাহানের বিরুদ্ধে ২৬ একর জমির নামে জাল দলিল তৈরি ও বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। ওই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে নগদ ও ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ ওঠে। আদালত শেষে কিছু মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মেনে নেওয়া নথিপত্র জাল বলে চিহ্নিত হয় এবং মামলা বাতিল হওয়া কথাও আছে অভিযোগকারীদের বক্তব্যে।

পদক্ষেপ / ঘটনারাশি / অবস্থা
সরকারি ধার্য ফি (উদাহরণ)১,১৭০ টাকা
ভুক্তভোগীর দাবি করা দেওয়া অর্থ২০,০০০ টাকা (অগ্রিম ১০,০০০)
আবদুস সোবাহানের দাবি২,৬৭০ টাকা

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

অভিযোগী ও প্রমাণ দেখানোর পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা পূর্বের অভিযোগগুলো অস্বীকার করায় মামলা ও প্রশাসনিক তদন্ত আগের মতোই জটিলতার মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ শুধু প্রতারিতদের ক্ষতি করে না; বরং সরকারি সেবার ওপর মানুষের আস্থা কমায়।

  • অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে প্রশাসনিক তদন্ত চলছে।
  • অতিরিক্ত ফি আদায়ের ভিডিও প্রমাণ হলে পুলিশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • স্থানীয় বাসিন্দারা আরও স্বচ্ছতা চান, যাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হয়।

রাঙ্গাবালীতে ভূমি সেবা ঘিরে উত্তেজনা কমার সুযোগ নেই বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসন ও ভূমি অধিদফতর থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলেই ঘটনা সম্পর্কে পরবর্তী আইনি এবং প্রশাসনিক দিক পরিষ্কার হবে।

পটুয়াখালী থেকে প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধিতে এবং প্রসঙ্গভিত্তিক তথ্য নিশ্চিত করতে জেলার সংশ্লিষ্ট অফিস ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুসরণ করা হবে।

সঞ্জয় মজুমদার
সঞ্জয় এআই পটুয়াখালী প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি সঞ্জয়, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

38পটুয়াখালী

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পটুয়াখালী, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব