কুমিল্লার নাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে বুধবার দুপুরে রেললাইনে মেরামত কাজের আগাম সতর্কতা না জানানো ও কন্ট্রোল রুমকে অবহিত না করার অভিযোগে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাকে 'দায়িত্ব অবহেলার' কৃত্য বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. গোলাম সারোয়ার-কে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
রেলওয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেনটি নাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশন অতিক্রম করছিল। ওই সময় রেললাইনে মেরামত কাজ চলছিল এবং এটি সম্পর্কে স্টেশনমাস্টার, ট্রেন চালক বা রেলওয়ের মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষকে কোনওভাবে জানানো হয়নি। চালক বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই ট্রেন মেরামতাধীন লাইনে উঠে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের ইঞ্জিনসহ কয়েকটি কোচের চাকা লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
রেলওয়ের জনসংযোগ শাখার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে ১২২/৭-৮ কিলোমিটার এলাকার রেললাইন খুলে মেরামত কাজ চলছিল। আপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়লেও বিকল্প ডাউন-লাইন সচল থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
কতটি কোচ লাইনচ্যুত—দুটি রিপোর্টের পার্থক্য
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে লাইনচ্যুত কোচের সংখ্যা সম্পর্কে ভিন্নতা দেখা যায়। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইঞ্জিনসহ ৩টি কোচ লাইনচ্যুত হয়েছে, অপর প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়েছে। রেলওয়ে সূত্র একই ঘটনাকে নিশ্চিত করলেও পূর্ণ বিবরণ ও ক্ষতির পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
“রেলপথে সংস্কার চলছিল তা জানানো হয়নি,”
এই বক্তব্যটি ট্রেনের চালক মোয়াজ্জেম হোসেনের এবং তিনি জানিয়েছেন, গতি কম থাকায় দুর্ঘটনার পর বড় ধরনের ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা কমে এসেছে।
রেসকিউ ও পরবর্তী ব্যবস্থা
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে লাকসাম থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পড়ে। উদ্ধারকাজ শুরু হতে কিছু সময় লেগে যায়—কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মতো পরে কার্যকর উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রেললাইনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে রুট সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও আপলাইন কিছু সময়ে বন্ধ ছিল।
- সময়: বুধবার দুপুর (প্রাথমিক রিপোর্টে ১২:৩০–১৩:০০ টার আশপাশে)
- অবস্থান: নাঙ্গলকোট–লাকসাম সেকশন, ১২২/৭-৮ কিমি এলাকা
- প্রভাব: আপলাইন সাময়িক ব্যাহত; বিকল্প ডাউন-লাইন সচল রেখে মূল রুটে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল বজায়
- ওই দিন ব্যবস্থাপনা: উদ্ধার ট্রেন পাঠানো ও জরুরী উদ্ধারকাজ শুরু
তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ঘটনায় দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে রেলওয়ে জানিয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনার কারণ নির্ণয় করা হবে এবং দায়ির কর্তব্যে অবহেলার শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ পরবর্তী সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেন | কর্ণফুলী কমিউটার (ঢাকা-চট্টগ্রাম) |
| স্থান | নাঙ্গলকোট–লাকসাম সেকশন, ১২২/৭-৮ কিমি |
| লাইনচ্যুত কোচ | রিপোর্ট ভিন্ন—ইঞ্জিনসহ ৩ বা ৫ কোচ |
| শাস্তি | জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত |
| তদন্ত | ৪ সদস্যের কমিটি গঠন |
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা মন্তব্যে warned যে রেলের মতো স্পর্শকাতর পরিষেবা পরিচালনায় নিয়ম না মেনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করা গুরুতর অপরাধ। স্টেশনমাস্টার বা কন্ট্রোল রুমকে অবহিত না করে কাজ চালানোর ফলেই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা জানান, রেল সেবা বন্ধ বা বিলম্ব হলে দৈনন্দিন কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে কর্মজীবী যাত্রীরাও ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় রেলওয়ের নিরাপত্তা ও মৌলিক পরিচালন নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে এর প্রভাব প্রতিষ্ঠিত।
এখনকার দায়িত্ব রেলদফতরের—তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে ক্ষতি ও দায়ভার নির্ণয় করা এবং ভবিষ্যতে তা রোধে কার্যকর নির্দেশনা জারি করা। উদ্ধার ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে ট্র্যাফিক স্বাভাবিককরণের চূড়ান্ত সময় সম্পর্কে রেলওয়ে পরবর্তীতে জানাবে।
রিপোর্টার: রুবিনা আক্তার, কুমিল্লা প্রতিনিধি, WE NEWS